জগন্নাথপুরে ব্লক নির্মাণে ব্যবহার হচ্ছে নিম্নমানের পাথর
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:৪৭:৩২ অপরাহ্ন

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে পাথর সংকটে, সড়কের ঢালুস্থানে বসানোর জন্য পাকা ব্লক নির্মাণে নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয় জনমনে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করলেও প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। মাটি মিশ্রিত লালছে পাথর দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে পাকা ব্লক। ব্লক তৈরির সময় পাথরগুলো ধোঁয়াও হয় না বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
জানা গেছে, সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে জগন্নাথপুর উপজেলা এলাকায় প্রধান সড়ক আরো প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। গত কয়েক মাস ধরে অবিরাম চলছে কাজ। প্রশস্তকরণ কাজ শেষ হলে শুরু হবে সড়কের পাশে পাকা ব্লক বসানোর কাজ। এ জন্য জগন্নাথপুর পৌর শহরের হাবিবনগর গ্রাম এলাকায় স্টিলের ব্রিজের পাশে পাকা ব্লক নির্মাণ কাজ চলছে। এসব নির্মাণ দেখতে প্রতিদিন উৎসুক জনতা দাঁড়িয়ে থাকেন। সবার সামনেই কাজে অনিয়ম কেউ মেনে নিতে পারছেন না। আবার প্রতিবাদ করার সাহসও পাচ্ছেন না। এভাবেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক লোক ব্লক নির্মাণে নিম্নমানের পাথর ব্যবহারের অভিযোগ তুলে ধরেন।
সোমবার সরজেমিনে দেখা যায়, বিশাল আয়তনের স্তুপ করে রাখা আছে নিম্নমানের পাথর। এসব পাথর দিয়ে নির্মাণ করা হয় পাকা ব্লক। তৈরি হওয়া ব্লক এখান থেকে অন্যস্থানে সরানোর কাজে ব্যস্ত রয়েছেন শ্রমিকেরা।
এ সময় কাজের দায়িত্বে কারা আছেন, জানতে চাইলে ব্লক নির্মাণ কাজের সাইট ঠিকাদার ও সড়কে কাজ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আরেকজনের সাথে কথা হয়। তারা জানান, এসব বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারবো না। কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছে জানতে চাইলে তারা জানান, এমএম বিল্ডার্স। তাদের কাছ থেকে ফোন নাম্বার নিয়ে কথা হয় এমএম বিল্ডার্সের সাইট ইঞ্জিনিয়ার নাজমুল হাসানের সঙ্গে। তিনি দাবি করেন, মানুষের অভিযোগ সঠিক নয়, আমরা ভালোমানের পাথর দিয়ে কাজ করছি।
পরে এ বিষয়ে কথা হয় সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাহদাত হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, সিলেটের ভোলাগঞ্জে সাদা পাথর পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে সুনামগঞ্জ মহাল থেকে এসব মাটিযুক্ত লালছে পাথর আমদানী করা হয়েছে। শুধু পাথর সংকটের কারণে এসব পাথর দুইবার করে ধুঁয়ে ব্যবহার করার কথা রয়েছে।
তবে ক্ষুদ্ধ জনতার দাবি, কমপক্ষে একবার হলেও পাথরগুলো ভালোভাবে ধুয়ে যেন ব্যবহার করা হয়। তা না হলে প্রতিবাদী জনতাদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।





