১১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বেসরকারি বিনিয়োগ
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ মার্চ ২০২৬, ৭:২২:১২ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : দুর্বল বিনিয়োগ পরিবেশ ও সামষ্টিক অর্থনীতি চাপে থাকায় টানা তৃতীয় বছরের মতো কমেছে বেসরকারি বিনিয়োগ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ২২ দশমিক ০৩ শতাংশে, যা গত ১১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে সরকারি বিনিয়োগও টানা তৃতীয় বছরের মতো কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপির অনুপাতে সরকারি বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৫১ শতাংশে, যা আগের বছর ছিল ৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এটি ২০১৩ সালের পর থেকে সর্বনিম্ন।
অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, বিনিয়োগ কমে যাওয়ার এই প্রবণতার অর্থ হলো শ্রমবাজারে প্রতিবছর যুক্ত হওয়া বিপুলসংখ্যক তরুণরা কাজ পাচ্ছেন না। এটি ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্যও বড় হুমকি। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, এটি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে এমন একসময়ে যখন কর্মসংস্থান তৈরি ও রপ্তানি বাড়াতে আমাদের বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।
চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ, যা কোভিডকালীন ২০২০ সালের পর সর্বনিম্ন। এই প্রবৃদ্ধি মূলত বেসরকারি খাতের চাহিদার ওপর নির্ভরশীল। বিনিয়োগ কমে যাওয়ার অর্থ হলো, অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিনিয়োগ হচ্ছে না।
বেসরকারি বিনিয়োগ কমার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন মাসরুর রিয়াজ। তিনি বলেন, আমাদের বিনিয়োগ পরিবেশ দুর্বল। প্রায় এক দশক আগেই এই সমস্যা চিহ্নিত হয়েছিল। কত সহজে ব্যবসা করা যায় তা নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সূচকে ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৭৬তম। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর অপসারণ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে যা ঘটেছে, তা আন্তর্জাতিক মহলে নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে। এতে বোঝা যায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া দুর্বল ও শৃঙ্খলার অভাব রয়েছে।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান বলেন, দুর্বল ব্যবসায়িক পরিবেশ, অবকাঠামোগত জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমে যাওয়া বিনিয়োগ কমার অন্যতম কারণ। সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। তিনি বলেন, ২০২০ সাল থেকে ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের অভাবে ঋণ বিতরণে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। ‘উৎপাদনশীল ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ঋণ না দিয়ে আর্থিক খাতকে কুক্ষিগত করে রেখেছে কায়েমি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী। বড় অঙ্কের ঋণ কেলেঙ্কারি এবং তদারকির দুর্বলতা প্রকৃত উদ্যোক্তাদের কোণঠাসা করে ফেলেছে।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সাবেক রেগুলেটরি রিফর্মস বিশেষজ্ঞ সৈয়দ আখতার মাহমুদ বলেন, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার কারণে বিনিয়োগের হার কমছে। সরকার বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের চেষ্টা করলেও নিয়ন্ত্রণমূলক বাধা ও ঋণের অপ্রতুলতার মতো মৌলিক সমস্যাগুলো রয়েই গেছে।





