সিলেট বোর্ডের ৯৬ কেন্দ্রেই থাকছে সিসি ক্যামেরা
প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ জুন ২০২৬, ৮:৩৪:৫১ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা| পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তত্মুতি সম্পন্ন করেছে সিলেট শিক্ষা বোর্ড|
জানা গেছে, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ৯৬টি কেন্দ্রই থাকছে সিসি ক্যামেরার আওতায়| ইতোমধ্যে বোর্ডের সকল পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে| পরীক্ষা নকলমুক্ত পরিবেশে ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কেন্দ্র প্রধানদের বেশি কিছু নির্দেশনা দিয়েছে বোর্ড| এছাড়া সকল ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্র প্রধানকে চূড়ান্ত নির্দেশনা দিতে আগামী রোববার (২৮ জুন) শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে সিলেট বোর্ড| ওই দিন সকাল ১০টায় নগরীর জালালাবাদ গ্যাস অডিটোরিয়ামে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে| সেখানে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেবেন|
বোর্ডের তথ্য মতে, সিলেট বোর্ডের মধ্যে সিলেট জেলায় সর্বোচ্চ ৩৭টি পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে| আর সবচেয়ে কম পরীক্ষা কেন্দ্র মৌলভীবাজার জেলায় ১৭টি| এছাড়া হবিগঞ্জ জেলায় ১৮টি ও সুনামগঞ্জ জেলায় ২২টি পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবেন শিক্ষার্থীরা|
তথ্য মতে, পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিকেও এবার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে| সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার আইডি, পাসওয়ার্ড, ব্র্যান্ড, ডিভাইস সিরিয়াল ন¤^র ও ডিভিআর/এনভিআর সংযোগের তথ্য শিক্ষা বোর্ড জমা নিয়েছে| সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করে কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে বোর্ড| কোনো কেন্দ্রে সিসিটিভি অকার্যকর থাকলে বা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ˆশথিল্য ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ারও কথা জানিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ|
তথ্য বলছে, চলতি বছর সিলেট বোর্ডে ৭১ হাজার ৭১১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবেন| গত বছর অংশ নিয়েছিল ৬৯ হাজার ৬৮৩ জন| সেই অনুযায়ী এবার এই বোর্ডে পরীক্ষার্থী বেড়েছে ২ হাজার ২৮ জন|
সিলেটসহ দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এবার পরীক্ষায় অংশ নিতে যাচ্ছে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন নিবন্ধিত শিক্ষার্থী| গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য মোট নিবন্ধিত বা ফরম পূরণ করা পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন| সেই হিসাবে গত বছরের তুলনায় এবার মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১৯ হাজার ৪৭২ জন|
তবে গত বছর নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ১৫ হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকায় চূড়ান্তভাবে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৬১ জন শিক্ষার্থী| ২০২৫ সালের সেই প্রকৃত অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় এবার নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজার (৩৪,৯২২ জন) বেশি| আর ১১টি বোর্ডের অধীনে এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে দেশজুড়ে প্রস্তুত করা হয়েছে ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্র|
নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ৮টা থেকে কেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারবে| তবে পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে সবাইকে নির্ধারিত কক্ষে প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে| বিশেষ পরিস্থিতিতে দেরিতে আসা শিক্ষার্থীদের তথ্য রেজিস্টারে সংরক্ষণ করে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যাবে|
এবার প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনাতেও রাখা হয়েছে একাধিক নিরাপত্তা স্তর| পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যাচাই করা হবে| পরীক্ষার দিন নির্ধারিত প্রশ্নপত্র ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের প্রহরায় কেন্দ্রে আনা হবে| মোবাইলের মাধ্যমে নির্ধারিত সেট কোড পাওয়ার পরই প্রশ্নপত্র খোলা যাবে| নির্ধারিত সেটের বাইরে পরীক্ষা নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে|
পরীক্ষার প্রস্তত্মুতির বিষয়ে সিলেট বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন জানান, ইতোমধ্যে সকল প্রস্তত্মুতি সম্পন্ন করা হয়েছে| এবার পরীক্ষা সম্পূর্ণ নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনে সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে|






