বাইসাইকেল রপ্তানিতে ফের আশার আলো
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ জুন ২০২৬, ৮:৩৩:২৪ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : অপ্রচলিত বা নতুন পণ্য হিসাবে রপ্তানি বাণিজ্যে বেশ ভালোই আশা জাগিয়েছিল বাইসাইকেল| পাঁচ বছর আগে ২০২১-২২ আর্থিক বছরে পরিবেশবান্ধব এ দ্বিচক্র যান রপ্তানি করে ১৬ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ| ভবিষ্যতে আরও বাড়বে—এই আশায় এরপর বিনিয়োগ বাড়িয়েছিল দেশের সাইকেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো|
কিন্তু পরের বছরেই রপ্তানিতে পতন সেই আশাকে দিয়েছিল ভেঙে| ২০২২-২৩ অর্থবছরে রপ্তানি আয় নেমে আসে ১৪ কোটি ২২ লাখ ১৫ হাজার ডলারে| পরের বছর অর্থাৎ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাইকেল রপ্তানি থেকে আয় আগের বছরের প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে; ৮ কোটি ২৪ লাখ ৯৬ হাজার ডলার আয় হয়|
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অবশ্য কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়; ১১ কোটি ৬৪ লাখ ৩৬ হাজার ডলারের বিদেশি মুদ্রা এসেছিল সাইকেল রপ্তানি থেকে| আগের আর্থিক বছরের চেয়ে বেশি এসেছিল ৪১ দশমিক ১৪ শতাংশ| প্রকৌশল পণ্য খাতের এই পণ্য রপ্তানিতে এখন ফের আশার আলো দেখা দিয়েছে| এখন ইলেকট্রিক বাইসাইকেলও রপ্তানি হচ্ছে| রপ্তানিকারকরাও বেশ খুশি| আগামীতে রপ্তানি আরও বাড়াতে নতুন করে বিনিয়োগের ছক কষছেন তারা|
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সবশেষ তথ্যে দেখা যায়, ৩০ জুন শেষ হতে চলা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) ১৩ কোটি ৮৭ লাখ ৪৮ হাজার ডলারের সাইকেল রপ্তানি হয়েছে| এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৮ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি| ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এই ১১ মাসে আয় হয়েছিল ১০ কোটি ৮১ লাখ ৪৪ হাজার ডলার|
সবশেষ মে মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬০ দশমিক ৫২ শতাংশ| এই মাসে সাইকেল রপ্তানি থেকে ১ কোটি ৬৪ লাখ ৯০ হাজার ডলার আয় হয়েছে| গত বছরের একই মাসে এই অঙ্ক ছিল ১ কোটি ২ লাখ ৭৩ হাজার ডলার| বিদায়ী অর্থবছরের শেষ মাস জুনে আগের মাস মে’র সমান আয় হলে ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে পাঁচ বছর আগের ২০২১-২২ অর্থবছরের সমান আয় হবে| আর বেশি হলে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়াবে| ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই খাত থেকে আয় কমেছিল ৪২ শতাংশ| তার আগের বছরে (২০২২-২৩) কমেছিল ১৫ দশমিক ৩২ শতাংশ|
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বাইসাইকেল রপ্তানি করে এলেও সর্বাধিক আয় এসেছিল ২০২১-২২ অর্থবছরেই| তখনকার বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১২০ টাকা) হিসাবে টাকার অঙ্কে তা ছিল ২ হাজার কোটি টাকার বেশি| ওই অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ২৮ শতাংশ| অর্থাৎ আগের অর্থবছরের চেয়ে রপ্তানি আয় ২৮ শতাংশ বেড়েছিল|
তার আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল আরও বেশি ৫৮ শতাংশ; ওই অর্থবছরে ১৩ কোটি ৮ লাখ ৮৫ হাজার ডলার আয় হয়েছিল| এর আগের অর্থবছরে (২০১৯-২০) আয়ের অঙ্ক ছিল ৮ কোটি ২৮ লাখ ৪০ হাজার ডলার| বাড়তে থাকার পর ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে কমার জন্য রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধকে দায়ী করেছিলেন রপ্তানিকারকরা| কারণ বাংলাদেশের সাইকেল রপ্তানির মূল বাজার ইউরোপ| যুদ্ধের কারণে ইউরোপের দেশগুলোর অর্থনীতি বেশ চাপের মুখে পড়েছিল; মূল্যস্ফীতি বেড়ে গিয়েছিল| মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গিয়েছিল; তার প্রভাব পড়েছিল সাইকেল রপ্তানিতে|
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যানবিষয়ক সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নে তৃতীয় এবং বিশ্বে অষ্টম বাইসাইকেল রপ্তানিকারক দেশ| বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া বাইসাইকেলের ৮০ শতাংশই যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে| বাকিটা যায় ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশে| একক দেশ হিসাবে বাংলাদেশের সাইকেলের বড় বাজার হচ্ছে যুক্তরাজ্য ও জার্মানি|
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন বিভাগের পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল বলেন, কোভিড মহামারীর মধ্যেও বেশ ভালো রপ্তানি করেছিলাম আমরা| কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের টালমাটাল অবস্থায় রপ্তানি কমে গিয়েছিল| এখন আগের অবস্থা ফিরে এসেছে| রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজের বছরে ১৫ লাখ বাইসাইকেল ˆতরির সক্ষমতা আছে, যার এক-তৃতীয়াংশ ইউরোপে রপ্তানি করা হয়| বাকিটা দেশের বাজারে বিক্রি হয়| কামরুজ্জামান কামাল বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রপ্তানি বাড়াতে আমরা বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়িয়েছি, পাশাপাশি নতুন বাজার খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি| এখন আমরা বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রে সাইকেল রপ্তানি করছি| বেশ ভালোই সাড়া পাচ্ছি| আশা করছি, আমেরিকার বাজারেও আমরা আমাদের শক্ত অবস্থান ˆতরি করতে পারব|






