মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি মানবপাচার চক্রের আস্তানায় অভিযান, তিন সদস্যসহ আটক ১৯
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ জুলাই ২০২৬, ৮:৩২:৩০ অপরাহ্ন

আহমাদুল কবির, কুয়ালালামপুর থেকে : বাংলাদেশি মানবপাচার চক্র ‘গ্যাং করিম’-এর আস্তানায় মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশনের অভিযানে ১৫ বাংলাদেশি ও এক পাকিস্তানি নাগরিকসহ মোট ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে| মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের (জেআইএম) এনফোর্সমেন্ট শাখার একদল কর্মকর্তা ৮ জুলাই সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৫০ মিনিটে সেলাঙ্গর রাজ্যের চেরাস এলাকায় একটি দোকানঘরের ওপরের তলায় পরিচালিত একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করেন|
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৫ জন বাংলাদেশি ও একজন পাকিস্তানি নাগরিককে মানবপাচারের শিকার হয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশকারী অভিবাসী বলে সন্দেহ করা হচ্ছে| এছাড়া আরও তিন বাংলাদেশি পুরুষকে চক্রটির সদস্য হিসেবে আটক করা হয়েছে| তারা পাচারকারীদের সহযোগী এবং ট্রানজিট হাউসের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে| প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক অভিবাসীরা একই দিন মালয়েশিয়ার পূর্ব উপকূলের একটি অবৈধ সীমান্তপথ দিয়ে দেশে প্রবেশ করেন| পরে তাদের সড়কপথে ক্লাং ভ্যালি অঞ্চলে নিয়ে আসা হয়|
ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সক্রিয় থাকা এই চক্রটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে মানবপাচার পরিচালনা করে আসছিল| পাচার হওয়া অভিবাসীদের প্রথমে ক¤ে^াডিয়ায় নেওয়া হতো| সেখান থেকে দক্ষিণ থাইল্যান্ড হয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ার কেলান্তান রাজ্যে প্রবেশ করানো হতো| চক্রটি প্রতিটি অভিবাসীর কাছ থেকে প্রায় ১৫ হাজার রিঙ্গিত করে আদায় করত| এ পর্যন্ত তাদের অবৈধ আয় প্রায় ৩২ লাখ রিঙ্গিত (৩.২ মিলিয়ন রিঙ্গিত) বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ|
আটক তিন বাংলাদেশির একজনকে মালয়েশিয়ায় চক্রটির মূল সমš^য়কারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে| অভিযানে চক্রটির ব্যবহৃত একটি সেডান গাড়িও জব্দ করা হয়েছে| ২০ থেকে ৫২ বছর বয়সী আটক ব্যক্তিদের পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে| মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানবিরোধী আইন ২০০৭ (অঞওচঝঙগ) অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে| মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩, পাসপোর্ট আইন ১৯৬৬, ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩ এবং মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানবিরোধী আইন ২০০৭ (অপ্টিজম) লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে|






