দেশ আবার পুরোনো অন্ধকারে ফিরে যাচ্ছে: জামায়াত আমীর
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ জুলাই ২০২৬, ৭:৩৭:৪৬ অপরাহ্ন
জালালাবাদ ডেস্ক: দেশ আবার পুরোনো অন্ধকার পথে ফিরে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান| বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ঢাকা মহানগর জামায়াত আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন|
শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদমুক্ত, ˆবষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠন| কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পরিবর্তে দেশে এখন ‘নির্লজ্জ দলীয়করণ’ চলছে| সরকারি-বেসরকারি, আধা সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা, করপোরেশন, প্রশাসন ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্য ও দেশপ্রেমিকদের সরিয়ে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে|
এই নেতা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পরিষদ, প্রশাসন, ব্যাংক-বীমা, করপোরেশন— সব জায়গায় এখন নির্লজ্জ দলীয়করণ চলছে| এটি কি নতুন ধরনের কোটা নয়? যোগ্য ও সৎ মানুষদের সরিয়ে অসৎ ও দুর্নীতিবাজদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসানো হচ্ছে| যেন একটি দুর্নীতির ¯^র্গরাজ্য কায়েম করা যায়|
জামায়াত আমীর বলেন, যারা জীবন দিয়েছেন— তারা কি শুধু একটি দলকে সরিয়ে আরেকটি দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য আত্মত্যাগ করেছিলেন? তারা চেয়েছিলেন রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তন, সিস্টেমের (ব্যবস্থা) পরিবর্তন| কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, দেশ আবার সেই পুরোনো অন্ধকার পথে ফিরে যাচ্ছে|
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলন চলাকালে যখন অনেক রাজনৈতিক দল এটিকে কেবল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বলে দূরত্ব বজায় রাখে, তখন জামায়াতে ইসলামী প্রকাশ্যে দেশবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের আন্দোলনরত তরুণদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিল| তবে আন্দোলন সফল হওয়ার পরও দলটি কখনও এর কৃতিত্ব দাবি করেনি|
তিনি বলেন, আমরা বলিনি আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড (মূল পরিকল্পনাকারী) আমরা| কিংবা আমাদের এত শহীদ হয়েছে বলে কোনো কৃতিত্ব দাবি করিনি| আমরা নির্বাচনও দাবি করিনি| বরং শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়ানোকে অগ্রাধিকার দিয়েছি|
শফিকুর রহমান বলেন, ৬ আগস্টের পর দেশে চাঁদাবাজি শুরু হলেও তা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি| এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সতর্ক করা হলেও কোনো পরিবর্তন আসেনি|
শহীদ পরিবারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অনেক পরিবার আর্থিক সহায়তার চেয়ে শহীদদের ¯^প্ন বাস্তবায়নকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে| এক শহীদের বাবা তাদের দেওয়া আর্থিক সহায়তা ফিরিয়ে দিয়ে সেটি আরও অসচ্ছল শহীদ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন| এই মানসিকতা রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের জন্য শিক্ষা হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি|
তিনি বলেন, যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই প্রান্তিক মানুষ ও শ্রমজীবী| তাদের সরকারি চাকরির কোটা পাওয়ার কোনো ¯^ার্থ ছিল না| তারা রাস্তায় নেমেছিলেন ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ দেখতে|
শফিকুর রহমান বলেন, আমরা বিচার চাই, প্রতিশোধ চাই না| শহীদদের হত্যার বিচার একদিন না একদিন অবশ্যই এই বাংলার মাটিতে হবে| যত বছরই লাগুক, এ বিচার হবেই| এই দাবি থেকে আমরা কখনো সরে আসব না|
তিনি বলেন, গণভোট ও জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি থেকেও জামায়াতে ইসলামী সরে আসবে না| সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনারা জাতির সঙ্গে দেওয়া কথা রক্ষা করেননি, বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন| এখনও সময় আছে, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সঠিক পথে ফিরে আসুন|
তিনি বলেন, আমাদের নানা ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে| কিন্তু আল্লাহ ছাড়া আমরা কাউকে ভয় করি না| আপসের অনেক প্রস্তাব ও নানা ধরনের লোভ দেখানো হয়েছে, আমরা সবই প্রত্যাখ্যান করেছি| অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না|
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যেতে দেওয়া হবে না| জীবন দিতে হলেও জুলাইকে কাউকে দিয়ে দেব না| জুলাইয়ের চেতনা আমাদের অন্তরে ধারণ করে রাখব| শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে সবসময় থাকার চেষ্টা করব| অনুষ্ঠানে তিনি শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং তাদের পরিবারের জন্য ˆধর্য ও শক্তি কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চান|






