ছাতক পৌরসভায় নেই স্থায়ী সচিব : বাড়ছে নাগরিক ভোগান্তি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:২২:৪১ অপরাহ্ন
ছাতক প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক এ গ্রেড পৌরসভায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী সচিব নেই। অন্য একটি পৌরসভায় কর্মরত একজন সচিব অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ছাতক পৌরসভার সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। একই কর্মকর্তা নিজ কর্মস্থলের পাশাপাশি ছাতক পৌরসভার দায়িত্ব পালন করায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন পৌরসভার সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয় নাগরিকরা।
নাগরিকদের অভিযোগ, বর্তমানে পৌরসভার অধিকাংশ কার্যক্রমই ধীরে ধীরে অনলাইননির্ভর হচ্ছে। জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং-সংক্রান্ত কার্যক্রম, বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র ও নথি অনুমোদনসহ নানা নাগরিক সেবা দ্রুত সম্পন্ন করতে নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতি প্রয়োজন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সচিব অন্য একটি পৌরসভায় কর্মরত থাকায় সবসময় ছাতক পৌরসভায় উপস্থিত থাকা সম্ভব হয় না। ফলে গুরুত্বপূর্ণ অনেক ফাইল ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, কোনো সেবা বা নথির জন্য পৌরসভায় এসে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে না পেয়ে তাদের একাধিকবার ফিরে যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ এতে বেশি সমস্যায় পড়ছেন। অনলাইনে আবেদন করার পরও কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
পৌরশহরের গণক্ষাই গ্রামের সেবাগ্রহীতা মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, গত বৃহস্পতিবার অনলাইনে নাগরিক সনদের জন্য আবেদন করে পৌরসভা ও উপজেলা কার্যালয়ে চারবার আসা-যাওয়া করতে হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর পৌরসভার সচিব অনুমোদন না দিলে আবেদনটি পৌর প্রশাসক/মেয়রের কাছে যায় না। অথচ সংশ্লিষ্ট সচিব অন্য একটি পৌরসভায় কর্মরত থাকায় তিনি পরবর্তী সপ্তাহে আসবেন বলে জানানো হয়েছে। তাঁর অনুমোদনের পর পৌর প্রশাসক/মেয়র আবেদনটি মঞ্জুর করলে নাগরিক সনদ পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, পৌর প্রশাসকের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, সচিব অনুমোদন দেওয়ার পর আবেদনটি তাঁর কাছে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি মোবাইল থেকে অনুমোদন করে দেবেন। অফলাইনে আগে এক ঘণ্টার মধ্যেই নাগরিক সনদ পেয়েছি। অথচ অনলাইন সেবা চালু হওয়ার পরও একদিন অপেক্ষা করেও সনদ পাইনি। এতে জরুরি কাজও করতে পারিনি।
পৌর শহরের ভাজনামহল এলাকার বাসিন্দা, ছাতক পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল মাহমুদ বলেন, ছাতক পৌরসভা একটি এ গ্রেডের পৌরসভা। এখানে স্থায়ী সচিব না থাকায় নাগরিকদের কাক্সিক্ষত সেবা পেতে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভায় এভাবে অতিরিক্ত দায়িত্বে সচিব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে ছাতক পৌরসভার জন্য দ্রুত একজন স্থায়ী সচিব নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ছাতক পৌরসভার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব শরদিন্দু রায় বলেন, ‘আমি ২০২৪ সালের জুন মাসে ছাতক পৌরসভায় অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে যোগদান করি। আমার বর্তমান কর্মস্থল কানাইঘাট পৌরসভা। এর আগে কুলাউড়া পৌরসভায় সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে ছাতক পৌরসভায় সপ্তাহে কোনো কোনো সময় দুই দিন এবং কোনো কোনো সপ্তাহে তিন দিনও অফিস করি।’
তিনি বলেন, ‘দেশের অনেক পৌরসভাতেই বর্তমানে সচিব নেই। এরপরও আমি চেষ্টা করি ছাতক পৌরসভার জরুরি কাজসহ আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে। আমি যেদিন ছাতক পৌরসভায় থাকি না, সেদিন কোনো জরুরি কাজ থাকলে অফিসের কর্মচারীরা আমাকে জানালে কানাইঘাট থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করি।’
শরদিন্দু রায় আরও বলেন, ‘নাগরিকদের কোনো ধরনের ভোগান্তি হচ্ছে না। তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো আবেদন বাকি থেকে যেতে পারে। দুইটি পৌরসভার দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে আমার কোনো ধরনের অসুবিধা হচ্ছে না। আমি আমার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করছি।’
এ ব্যাপারে ছাতক পৌর প্রশাসক মো. মহি উদ্দিন বলেন, ‘ছাতক পৌরসভা একটি বড় ও এ গ্রেডের পৌরসভা। এ হিসেবে এখানে একজন স্থায়ী সচিব থাকা অত্যন্ত জরুরি। তবে এখন পর্যন্ত পৌরসভার নাগরিক সেবা নিয়ে কোনো ধরনের ভোগান্তি বা অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। দেশের অনেক পৌরসভাতেই বর্তমানে সচিবের পদ শূন্য রয়েছে। তারপরও নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক অসীম চন্দ্র বনিক বলেন, ‘এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করুন।’






