নার্সিংকে মর্যাদাপূর্ণ পেশা হিসেবে তুলে ধরতে হবে : অতিরিক্ত সচিব দিল আফরোজ
প্রকাশিত হয়েছে : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৮:১৮:৫২ অপরাহ্ন
সিলেটে নার্সিং শিক্ষার আগ্রহ বাড়াতে প্রচারণা

স্টাফ রিপোর্টার : নার্সিং শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং এ পেশা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরির লক্ষ্যে সিলেটে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সেমিনার কক্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের (ডিজিএনএম) সহযোগিতায় কোওয়াটার ইন্টারন্যাশনালের প্রোনার্স প্রকল্প এ কর্মসূচির আয়োজন করে। এ প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে কানাডা সরকার।
‘নার্সিং বেছে নিন, মানুষের জীবনে ছোঁয়া দিন, ভবিষ্যৎ গড়ুন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কলেজশিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিজ্ঞ নার্স, নার্সিং শিক্ষাবিদ এবং সরকারি ও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে নার্সিং শিক্ষায় ভর্তির যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া, পেশাগত সুযোগ এবং উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
সিলেট জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মাহমুদা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) দিল আফরোজা।
বিশেষ অতিথি ছিলেন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর (ডিজিএনএম) এর পরিচালক (এডমিন) মো. সুমন মেহেদী, সিলেটের ডেপুটি সিভিল সারেজন জন্মেজয় দও, ডিজিএনএম এর সিনিয়র স্টাফ নার্স ড. আব্দুল লতিফ প্রমূখ।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন- সিলেট নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ বিথিকা মণ্ডল। প্রোনার্স প্রজেক্টের টীম লিডার ডা. সেলিনা আমীন আয়োজনের উদ্দেশ্য এবং প্রকল্পের কার্যক্রম তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সিলেট এমসি কলেজ, সিলেট সরকারী মহিলা কলেজ, ব্লু-বার্ড স্কুল এন্ড কলেজ ও অগ্রগামী বালিকা স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক এবং শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ছাড়াও নার্সিং ও স্বাস্থ্য খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নার্সদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তাঁদের অবদান অপরিসীম। নার্সিং শুধু মানবসেবার পেশা নয়, এটি দক্ষতাভিত্তিক ও মর্যাদাপূর্ণ একটি পেশা। এ শিক্ষার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, শিক্ষকতা, গবেষণা, জনস্বাস্থ্য, প্রশাসন ও নেতৃত্বসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে। তাই নার্সিং পেশা নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করে তরুণ-তরুণীদের এ শিক্ষায় আগ্রহী করে তুলতে হবে।
কর্মসূচির বিশেষ অধিবেশন ‘জীবনের গল্প: নার্সদের বাস্তব অভিজ্ঞতা’ পর্বে সিলেটে কর্মরত অভিজ্ঞ নার্সরা তাঁদের শিক্ষা, কর্মজীবন, সাফল্য ও পেশাগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এছাড়া উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা নার্সিং শিক্ষায় ভর্তির যোগ্যতা, কর্মসংস্থান, পেশাগত উন্নয়ন ও কর্মক্ষেত্রের নানা বিষয়ে প্রশ্ন করেন।
প্রোনার্স প্রকল্পের আওতায় দেশের নার্সিং খাতের পেশাগত উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করা হচ্ছে। ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৯ সালের মার্চ পর্যন্ত আট বছর মেয়াদি এ প্রকল্প স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে ইউনিভার্সিটি অব মন্ট্রিয়ল ও কানাডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব স্কুলস অব নার্সিং।






