এ লজ্জা রাখবো কোথায়?
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ আগস্ট ২০২৫, ১২:৩০:২৩ অপরাহ্ন
সম্প্রতি দৈনিক জালালাবাদে ‘দুর্ভোগ-ভোগান্তি ঃ খানাখন্দে ভরা নগরের সড়ক’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এতে নগরীর বিভিন্ন সড়কের জরাজীর্ণ দশা ও এর ফলে জনগণের দুর্ভোগের চিত্র ফুটে ওঠেছে। এতে বলা হয়েছে, খানাখন্দে ভরা সিলেট নগরের বিভিন্ন সড়ক। পীচ ঢালাই উঠে গিয়ে বড়ো বড়ো গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে বিভিন্ন সড়ক। ফলে নাগরিকদের চলাচলে, যান চলাচলে বেড়েছে ঝুঁকি, বাড়ছে দুর্ঘটনার শংকাও। নগরবাসীর অভিযোগ, গণঅভ্যুত্থানের পর সিলেট সিটি কর্পোরেশন সড়ক সংস্কারে উদাসীন। যেসব সড়ক সিটি কর্পোরেশনের সেগুলো যেনো দ্রুত সংস্কার করা হয়, এমন দাবি নগরবাসীর। এ ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনের বক্তব্য হচ্ছে, নিয়মিতই সড়ক সংস্কার করা হয়। এটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। ধারাবাহিকভাবে সবগুলো সড়কই সংস্কার করা হবে। সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের এই দাবি সত্যি নয়। অতীতে নগরীর বিভিন্ন সড়ক যেভাবে মেরামত বা সংস্কারের মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে, তার চেয়ে অনেক কম গুরুত্ব ও মনোযোগ দেয়া হচ্ছে এই কাজে। আগে দুই-তিন মাস পর পর বিভিন্ন সড়কে সংস্কার কাজ হলেও এখন গত ৮-১০ মাসে কোন কাজই হয়নি। ফলে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এসব রাস্তাঘাট। বড়ো বড়ো গর্ত, খাদ ও ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে এগুলোতে। এ অবস্থায় রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনকে গর্ত ও খানাখন্দ এড়িয়ে এঁকে বেঁকে চলতে হচ্ছে। এতে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে, ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে বড়ো দুর্ঘটনার। রাস্তাঘাট ভাঙ্গাচোরা ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় চলাচলে যানবাহনের মারাত্মক যান্ত্রিক বৈকল্য ও ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। এর ফলে গাড়ির মালিক ও চালকদের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। ঘন ঘন গাড়ি মেরামত করতে গিয়ে তাদের সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে। রাস্তাঘাট গর্তপূর্ণ ও ভাঙ্গাচোরা হওয়ায় রিকশার যাত্রীদের সবচেয়ে বেশী দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মহিলা, অসুস্থ ও বয়োবৃদ্ধ যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সবচেয়ে বেশী। ঝাঁকুনির চোটে তাদের হাঁড়গোড় গুঁড়ো হওয়ার মতো অবস্থা হচ্ছে প্রায়ই। বৃষ্টি বাদলার দিনে এ অবস্থার আরো অবনতি ঘটে। এ সময় রাস্তায় খানাখন্দ ও গর্তগুলো পানিতে পূর্ণ হওয়ায় রাস্তার গতি প্রকৃতি বুঝা যায় না। ফলে গর্তে পড়ে যানবাহনগুলো ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি যাত্রীরাও আহত হন।
দেখা গেছে, খোদ নগরীর কেন্দ্রস্থলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও ভাঙ্গাচোরা। বন্দর বাজার থেকে ওসমানী শিশুপার্ক পর্যন্ত ২-৩শ গজ রাস্তা মারাত্মক সব গর্ত ও ভাঙ্গন নিয়ে পড়ে আছে মাসের পর মাস। নগরীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এই রাস্তাটুকুর এই দুরবস্থা যেনো চোখেই পড়ে না নগর ভবনের কর্তাদের। গর্ত ও ভাঙ্গচোরা হওয়ায় রিকশা ও অন্যান্য যানবাহনকে এঁকে বেঁকে অ্যাক্রোবেটিক ভঙ্গীতে গর্ত ও ভাঙ্গন থেকে বাঁচিয়ে চলতে হচ্ছে। এভাবে চলছে মাসের পর মাস। এছাড়া নগরীর অনেক গলির রাস্তার অবস্থাও নাজুক অবস্থায় পড়ে আছে। এক্ষেত্রে নগরীর মিরাবাজার থেকে আগপাড়ার গলির রাস্তাটি যেনো দুর্ভোগের জীবন্ত উদাহরণ হয়ে আছে। ইতোপূর্বে যখন নগরীর বিভিন্ন গলিপথ প্রশস্ত ও সংস্কার হয়, তখন এই রাস্তাটিতে এ ধরনের সংস্কারের কোন ছোঁয়া লাগেনি। মেইন রোড থেকে আগপাড়া মসজিদ পর্যন্ত রাস্তার অংশটি প্রকৃত অর্থেই মরণ ফাঁদ হয়ে আছে দীর্ঘদিন যাবৎ। রাস্তার এই অংশে অগণিত বড়ো বড়ো গর্ত পথচারী ও যানবাহনকে মুখ ভেংচিয়ে বিদ্রুপ করছে যেনো। অনেকটা অভিভাবকহীন অবস্থায় পড়ে আছে রাস্তার এই অংশটুকু। সর্বোপরি সিলেট নগরীর রাস্তাঘাটের অবস্থা কখনোই তেমন ভালো ছিলো না। মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী তার মেয়াদকালে বেশ কিছু সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ করান। এতে নগরীর চেহারায় কিছু পরিবর্তন আসে। চলাচলের অসুবিধা কিছুটা হলেও দূর হয়। রাস্তাঘাট প্রশস্ত হয়, ফুটপাত তৈরী করা হয় অনেক রাস্তার পাশে। কিন্তু এর আগে কয়েক যুগ নগরীর রাস্তাঘাট ও গলিপথে কোন সংস্কার বা উন্নয়ন হয়নি বললেই চলে। নগরবাসীর অভিযোগ ঐ দীর্ঘসময় নগরীর উন্নয়নে বরাদ্দকৃত অর্থে চেটেপুটে খেয়ে ফেলা হয়। বলা বাহুল্য, সিলেট একটি পর্যটন নগরী। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন জেলা এমনকি দেশের বাইরে থেকে প্রচুর দর্শনার্থী ও পর্যটকের আগমন ঘটে সিলেট নগরীতে। কিন্তু সিলেট নগরীর রাস্তাঘাটের এমন হতশ্রী ও দৈন্যদশা দেখে তারা বিস্মিত ও হতাশ হন। আর লজ্জিত হন নগরবাসী। হতাশ হয়ে বলেন, এ লজ্জা রাখবো কোথায়? এই দুর্ভোগ, অসুবিধা ও লজ্জা দূরীকরণে নগরীর রাস্তাঘাট অবিলম্বে মেরামত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত সিলেট সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের। এমন অভিমত ও দাবি সচেতন মহলসহ গোটা নগরবাসীর।




