ইসলামী ব্যাংকিং গ্রাহক ঐক্য পরিষদের মানববন্ধন: ব্যাংকিং খাতে লুটেরাদের পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র মেনে নেয়া হবেনা
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৭:১১:১০ অপরাহ্ন
পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে শুধু ইসলামী ব্যাংক নয়, দেশের ব্যাংকিং খাতকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল। এস আলম ও বেক্সিমকোসহ একাধিক লুটেরা কোম্পানী ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট ও বিদেশে পাচার করেছে। বিগত অন্তর্বর্তীকালিন সরকার ব্যাংকিং খাত পুনরুদ্ধারে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের স্টাইলে লুটেরা ও পাচারকারীদের পুনর্বাসনের জন্য আইন পরিবর্তন করেছে। সরকার ৩ কোটি গ্রাহকের আস্থার জায়গা ইসলামী ব্যাংকে এস আলমকে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এর পরিণতি ভালো হবেনা। কারণ দেশে ফ্যাসিবাদী স্টাইলে ব্যাংক লুটপাটের চেষ্টা জনগণ সফল হতে দিবেনা। অবিলম্বে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনার দায়িত্ব মূল উদ্যোক্তা প্রকৃত শেয়ার মালিকদের হাতে তুলে দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট নগরীতে ইসলামী ব্যাংকিং গ্রাহক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তাগণ উপরোক্ত কথা বলেন। পরিষদের সমন্বয়ক ফাতির আহমদের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব কবির আহমদের পরিচালনায় নগরীর তালতলাস্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশসহ বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংকের বিপুল সংখ্যক গ্রাহক অংশ নেন।
মানববন্ধন শেষে সরকারের প্রতি ৪ দফা দাবি জানানো হয়। দাবী গুলো হলো- ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬-এর বিতর্কিত ধারা বাতিল করতে হবে, এস আলম গংদের গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে, প্রকৃত শেয়ার মালিকদের হাতে ব্যাংক পরিচালনার দায়িত্ব ফেরত দিতে হবে, পাচারকৃত অর্থ ফেরত পাচারকারীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে।
মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সিলেট জেলা বারের আইনজীবী রহমত আলী, আয়কর আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম, বদরুল আমিন হারুন, ইঞ্জিনিয়ার আতিকুর রহমান, জেলা বারের আইনজীবী এডভোকেট জামিল আহমদ রাজু, এডভোকেট দেলোয়ার হোসেন শামীম, ফটো জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন, ব্যাবসায়ী দুলাল হোসেন, আব্দুল কাদির, আব্দুল হামিদ ও শরীফ উদ্দিন প্রমূখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড দেশে প্রথম ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করেছিল। অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাংকটি শুধু দেশে নয়, গোটা বিশ্বে সুনাম অর্জন করে। ইসলামী ব্যাংকের সাফল্যে উদ্ধুদ্ধ হয়ে দেশে আরো ৫টি ইসলামী ব্যাংক চালু হয়। এছাড়া দেশের প্রায় সকল ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের জন্য আলাদা ইসলামিক উইন্ডো চালু করে। কিন্তু পতিত হাসিনা সরকার তার পেটুয়া বাহিনী দিয়ে রাতের আঁধারে ব্যাংক পরিচালকদের তুলে নিয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে ইসলামী ব্যাংকটি ডাকাত এস আলমের হাতে তুলে দেয়। আর সেই সুযোগে এস আলম গ্রুপ একাই ব্যাংক থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে নিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, এস আলম গ্রুপ দেশের বাকী ৫টি ইসলামী ব্যাংক থেকেও টাকা লুটপাট করে ব্যাংকগুলোকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় গিয়ে একটি বিতর্কিত ধারা সংযোজনের মাধ্যমে এস আলম গংদের ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশসহ বাকী ৫টি ইসলামী ব্যাংককে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র করছে। এই ষড়যন্ত্র আমরা সচেতন ব্যাংক গ্রাহকরা সফল হতে দিবোনা। বিজ্ঞপ্তি





