সাঈদীর সাক্ষী সুখরঞ্জনকে গুমের ঘটনায় এএসপি কারাগারে
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ জুলাই ২০২৬, ৮:০৫:১৩ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : পিরোজপুরের সুখরঞ্জন বালিকে ‘গুমের ঘটনায়’ জড়িত থাকার অভিযোগে এক সহকারী পুলিশ সুপারকে (এএসপি) গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ| আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের তৎকালীন সিনিয়র নায়েবে আমীর আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এসে ২০১২ সালে ট্রাইব্যুনাল এলাকা থেকে নিখোঁজ হন তিনি|
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, ফজলুর রহমান নামের ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীতে তাঁর বাসা থেকে গ্রেফতার করার পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে| ২০১২ সালের ৫ নভে¤^র আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এসে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ থেকে নিখোঁজ হন পিরোজপুরের বাসিন্দা সুখরঞ্জন বালি| পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাঁকে সীমান্ত এলাকায় পাওয়া গেছে| তবে তাঁর পরিবার ও কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছিল, ট্রাইব্যুনাল এলাকা থেকে তাঁকে তুলে নেওয়া হয়েছিল| ঘটনাটি সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়|
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর কার্যালয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন সুখরঞ্জন বালি| ওই অভিযোগে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করেন| এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়|
অভিযোগে আরও যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম, সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ট্রাইব্যুনালের সাবেক বিচারক বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবির, সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন এবং পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম আউয়াল রয়েছেন|
সুখরঞ্জন বালি তাঁর অভিযোগে বলেন, ২০১০ সালের জুলাই-আগস্টে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন তাঁকে পিরোজপুরের পাড়েরহাটের রাজলক্ষ্মী স্কুলে ডেকে ১৯৭১ সালে তাঁর ভাই বিশা বালির হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চান| তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ভাই নিহত হওয়ার কথা জানালে, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নামও হত্যাকারী হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে চাপ দেওয়া হয়| তিনি রাজি না হওয়ায় তাঁকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন সুখরঞ্জন| পরে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রকৃত ঘটনা ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরার অনুরোধ করলে তিনি সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়|
সুখরঞ্জনের দাবি, ২০১২ সালের ৫ নভে¤^র ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে গেলে ফটক থেকে পুলিশ তাঁর চোখ ও হাত বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়| সেখানে জানালাবিহীন একটি কক্ষে প্রায় দুই মাস এবং পরে অন্য একটি স্থানে আরও দুই মাস তাঁকে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়|
সুখরঞ্জন আরও অভিযোগ করেন, পরে চোখ বেঁধে তাঁকে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়| সেখানে বিজিবির মাধ্যমে তাঁকে ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনার ¯^রূপনগর থানার ˆবকারী এলাকায় পাঠানো হয়| পরে বিএসএফ তাঁকে আটক করে বশিরহাট হয়ে দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায়|
সুখরঞ্জনের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে তাঁর ছেলে ভারতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন| কারাগারে থাকাকালে কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্যাতনের অভিযোগ নথিভুক্ত করেন| দেশে ফেরার পরও নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি নিজ জেলা পিরোজপুরে ফিরতে পারেননি এবং আত্মগোপনে বসবাস করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন|






