মালয়েশিয়া সফরে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ জুলাই ২০২৬, ৮:২৬:৪৮ অপরাহ্ন

মালয়েশিয়া প্রতিনিধি : দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগে নতুন গতি এসেছে| এ প্রেক্ষাপটে তৃতীয়বারের মতো মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রবাসীকল্যাণ ও ˆবদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী| সফরে দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজার-সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ¯^াক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে, যা বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে নতুন দুয়ার খুলতে পারে|
প্রবাসীকল্যাণ ও ˆবদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সোমবার রাত ১১টায় মন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা ঢাকায় থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে| প্রতিনিধি দলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ&দী আমিনসহ মোট চারজন সদস্য থাকবেন|
আরও একটি সূত্র জানায়, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদও মালয়েশিয়ায় অবস্থান করতে পারেন| যদিও সফর নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি, সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে| একই সঙ্গে আগামী ৪ আগস্ট মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরেরও সম্ভাবনা রয়েছে|
পুত্রজায়া থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ও মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ¯^াক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে| এ চুক্তির মাধ্যমে সীমিত সংখ্যক জনশক্তি রপ্তানিকারক এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে|
এদিকে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম বিদেশি কর্মী সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে এক মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন| বিশেষ করে রেস্তোরাঁ শিল্পসহ কয়েকটি খাতে শ্রমিক সংকট দ্রুত সমাধানের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন|
সম্প্রতি পেনাংয়ের বাটারওর্থে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার বলেন, রেস্তোরাঁসহ কয়েকটি খাতে শ্রমিকের তীব্র সংকট রয়েছে| তবে বিদেশি কর্মী নিয়োগ অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হতে হবে| শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় খাতেই বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের বিষয়ে সরকার অগ্রাধিকার দেবে|
এর আগে মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ও সরকারের মুখপাত্র দাতুক সেরি ফাহমি ফাদজিল জানান, রেস্তোরাঁ ও নির্মাণ খাতসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা সরকার পুনর্বিবেচনা করছে|
বর্তমানে মালয়েশিয়া বিদেশি কর্মী নিয়োগে কঠোর নীতি অনুসরণ করছে| দ্বাদশ মালয়েশিয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী বিদেশি কর্মীর সংখ্যা মোট শ্রমশক্তির ১৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে| ত্রয়োদশ মালয়েশিয়া পরিকল্পনায় ২০৩০ সালের মধ্যে এ হার ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে|
শ্রমবাজার-সংশ্লিষ্টদের মতে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক নির্দেশনা, বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর এ সফর এবং আগামী ৪ আগস্ট মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীর সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফর—সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে ইতিবাচক অগ্রগতির সম্ভাবনা ˆতরি হয়েছে| বিশেষ করে এমওইউ ¯^াক্ষর হলে বাংলাদেশ থেকে নতুন করে কর্মী নিয়োগের পথ আরও সুগম হতে পারে|






