টাওয়ার হ্যামলেটসে বাসিন্দাদের ব্যয় সহায়তা বৃদ্ধির ঘোষণা
প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:০৯:৩৬ অপরাহ্ন

লন্ডন সংবাদদাতা : টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাসিন্দাদের ব্যয় সহায়তা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন। স্কুল ইউনিফর্ম গ্রান্ট ও কাউন্সিল ট্যাক্স রিলিফ পাওয়ার ক্ষেত্রে পারিবারিক বার্ষিক আয়ের সীমা ৫০ হাজার ৩৫০ পাউন্ড থেকে বাড়িয়ে ৬০ হাজার পাউন্ড করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ২টায় হোয়াইটচ্যাপেল রোডস্থ টাউন হলে বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মেয়র লুৎফুর রহমান এসব ঘোষণা দেন।
মেয়র জানান, আগে শুধু ইয়ার ওয়ান ও ইয়ার সেভেনের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম গ্রান্ট দেওয়া হতো। এ বছর থেকে আরও দুই শ্রেণির শিক্ষার্থীকে এ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। এখন ইয়ার থ্রি ও ইয়ার টেনে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাও বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম পাবে। পারিবারিক আয়ের সীমা বৃদ্ধির ফলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী স্কুল ইউনিফর্ম গ্রান্ট এবং শত শত পরিবার কাউন্সিল ট্যাক্স রিলিফ পাওয়ার সুযোগ পাবে। এতে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো কাউন্সিল ট্যাক্সের ২.৯৯ শতাংশ বৃদ্ধির চাপ সামলাতে সহায়তা পাবে। কাউন্সিল ট্যাক্স রিডাকশন স্কিমের আওতায় যোগ্য অনেক বাসিন্দার ১০০ শতাংশ পর্যন্ত কাউন্সিল ট্যাক্স মওকুফ হতে পারে।
মেয়র আরও জানান, প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি স্কুলে ফ্রি স্কুল মিল কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এ লেভেল শিক্ষার্থীদের জন্য ৬০০ পাউন্ড এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য ১ হাজার ৫০০ পাউন্ডের গ্রান্টও চলমান থাকবে। তিনি বলেন, শিগগিরই প্রেগন্যান্সি পেমেন্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য এক বছরের ফ্রি ট্রাভেল পাস চালু করা হচ্ছে। এছাড়া ফুড হাব তহবিল বা ফুড ব্যাংকে সহযোগিতার পরিমাণ বাড়িয়ে ৮ লাখ ৮৫ হাজার পাউন্ড করা হয়েছে। মেয়র জানান, ‘ইয়ং টাওয়ার হ্যামলেটস’ নামে কাউন্সিলের ইয়ুথ সার্ভিস ২০২৩ সালে পুনরায় কাউন্সিলের সরাসরি তত্ত্বাবধানে আনার পর থেকে এ পর্যন্ত ১ কোটি ৩৭ লাখ পাউন্ড বিনিয়োগ করা হয়েছে।
ডেপুটি মেয়র মাইউম মিয়া তালুকদার বলেন, প্রতি বছর কাউন্সিল কমিউনিটি সংগঠনগুলোকে ৬ মিলিয়ন পাউন্ড গ্রান্ট প্রদান করে। তিনি যোগ্য সংগঠনগুলোকে এ গ্রান্টের জন্য আবেদন করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ফস্টার কেয়ারার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্যও তিনি বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি জানান, স্কুল ইউনিফর্ম গ্রান্টের জন্য আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে আবেদন করতে হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, আবাসন সংকট সমাধানে কাউন্সিল কাজ করছে। গত চার বছরে ৬ হাজার ৪০০টি বাড়ি নির্মাণ বা হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সময়ে আরও ৬ হাজার বাড়ি নির্মাণের জন্য জায়গা নির্বাচন করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত এ ব্রিফিংয়ে আরও বক্তব্য দেন ডেপুটি মেয়র মাইউম মিয়া তালুকদার, ফাইন্যান্স ও রিসোর্সের কেবিনেট মেম্বার আবু তালহা চৌধুরী, কাউন্সিল কর্মকর্তা অ্যামি জেকসন এবং কর্পোরেট ডিরেক্টর স্টিভ রেডি। এ সময় কাউন্সিলের সব কেবিনেট মেম্বার ও অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






