ধরপাকড়ের চাপে মালয়েশিয়া ছাড়ছেন অবৈধরা
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:৩৫:০০ অপরাহ্ন
আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া: মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীবিরোধী অভিযান যত জোরদার হচ্ছে, ততই বাড়ছে দেশে ফেরার প্রবণতা। গ্রেফতার, মামলা ও কারাবন্দিত্ব এড়াতে সরকারি সুযোগ নিয়ে নিজ দেশে ফিরছেন কাগজপত্রহীন বিদেশিরা। ব্যাপক ধরপাকড়ের মধ্যেই মালয়েশিয়া সরকারের অভিবাসী প্রত্যাবাসন কর্মসূচি-২ (পিআরএম ২.০)-এর আওতায় নির্দিষ্ট শর্তে জরিমানা দিয়ে আইনি জটিলতা এড়িয়ে দেশে ফেরার সুযোগ মিলছে।
পিআরএম ২.০ চলবে ২০২৭ সালের ৩১ মে পর্যন্ত। ফলে দেশটিতে অবস্থানরত অবৈধ অভিবাসীদের সামনে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সুযোগ আরও আট মাস থাকছে।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ৩০ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা থাকা কর্মসূচির মেয়াদ ২০২৬ সালের ১ মে থেকে ২০২৭ সালের ৩১ মে পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কর্মসূচিটির কার্যকারিতা এবং বিপুলসংখ্যক বিদেশির সাড়া বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগের হিসাবে, ২০২৫ সালের ১৯ মে থেকে ২০২৬ সালের ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত ১১২ দেশের ২ লাখ ৫৪ হাজার ১৮৬ জন অনিবন্ধিত অভিবাসী এ কর্মসূচিতে নিবন্ধন করেছেন। এ সময়ে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ১২৭ কোটি রিঙ্গিত। তবে নিবন্ধনকারী ও দেশে ফিরে যাওয়া ব্যক্তির সংখ্যা এক নয়। ইমিগ্রেশন বিভাগের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রকাশিত সর্বশেষ বিস্তারিত হিসাবে, ওই সময় পর্যন্ত ২ লাখ ৪ হাজার ৫২৩ জন বিদেশি কর্মসূচির আওতায় স্বেচ্ছায় নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন। একই সময়ে নিবন্ধন করেছিলেন ২ লাখ ২৮ হাজার ৯৬১ জন।
অর্থাৎ, ২৯ এপ্রিলের ২ লাখ ৫৪ হাজার ১৮৬ জন হলো কর্মসূচিতে নিবন্ধনকারী, আর ১৫ এপ্রিলের ২ লাখ ৪ হাজার ৫২৩ জন হলো বাস্তবে দেশে ফিরে যাওয়া বিদেশি। দুটি সংখ্যা একই সময়ের নয় এবং একই বিষয়ও নির্দেশ করে না।
ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান জানান, কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক সবচেয়ে বেশি। এরপরই রয়েছে বাংলাদেশিরা। ফলে কর্মসূচিতে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ অন্যতম বড়। তবে এ পর্যন্ত ঠিক কতজন বাংলাদেশি পিআরএম ২.০-এর আওতায় দেশে ফিরেছেন, সে বিষয়ে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের প্রকাশ্য পরিসংখ্যানে পৃথক সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
পিআরএম ২.০ মূলত অনিবন্ধিত বিদেশিদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়ার কর্মসূচি। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় না গিয়ে নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধের মাধ্যমে দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়।
মালয়েশিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ পাস ছাড়া দেশটিতে প্রবেশ বা অবস্থান এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থানের ক্ষেত্রে ৫০০ রিঙ্গিত জরিমানা এবং পাসের শর্ত ভঙ্গের ক্ষেত্রে ৩০০ রিঙ্গিত জরিমানা নির্ধারিত রয়েছে।
মালয়েশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিয়মিত এসব অভিযানে বৈধ কাগজপত্রহীন বিদেশি নাগরিকদের আটক করা হচ্ছে। ফলে গ্রেফতার ও আইনি জটিলতায় পড়ার আশঙ্কায় অনেকেই সরকারি প্রত্যাবাসন কর্মসূচির সুযোগ নিতে চাইছেন।





