বিশ্ব পর্যটন দিবস আজ : সিলেটের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কতদূর?
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৭:৪৫ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : আজ ২৭ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব পর্যটন দিবস । বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হবে। পর্যটনের ভূমিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক উপযোগিতাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া এ দিবসের লক্ষ্য। দিবসটি উপলক্ষে সপ্তাহজুড়ে নানা কর্মসূচি গ্রহন করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।
জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা (ইউএন ট্যুরিজম) এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’। এ প্রতিপাদ্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের পর্যটন খাতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা তুলে ধরার বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রথমবার দেওয়া হবে পর্যটন পুরস্কার :
বিশ্ব পর্যটন দিবসের মূল আয়োজনে প্রথমবারের মতো দেওয়া হবে বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬। পর্যটন শিল্পের টেকসই উন্নয়ন, সেবার মানোন্নয়ন, উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা এবং পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে অবদান রাখা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা ও পর্যটন উদ্যোগ স্বীকৃতি দিতে ১৩ বিভাগে এই পুরস্কার দেওয়া হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।
পর্যটনের অবদান ৭ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য :
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার বলেন, পর্যটন খাতকে জাতীয় অর্থনীতির মূলধারার সঙ্গে আরও শক্তভাবে যুক্ত করে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এ খাতের অবদান বর্তমান ২-৩ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পর্যটন খাতের প্রকৃত অবদান ও সম্ভাবনা নিরূপণে স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট তৈরির কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান, দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা, ইনবাউন্ড ও আউটবাউন্ড পর্যটন, পর্যটকদের পছন্দের গন্তব্যসহ খাতটির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে।
ওই তথ্যের ভিত্তিতে পর্যটন মাস্টারপ্ল্যানটি সরকারের কৌশলগত উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হালনাগাদ করা হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এটি সম্পন্ন করার প্রত্যাশা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সিলেট ঘিরে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কতদূর:
প্রকৃতি দুই হাত উজাড় করে সাজিয়েছে সিলেটকে। জল-পাথর আর সবুজের এই মায়াজাল দেখতে প্রতিবছরই লাখো মানুষের ঢল নামে চায়ের দেশে। এই বিপুল সম্ভাবনাকে পুঁজি করে সিলেটের প্রধান ৬টি পর্যটনকেন্দ্র নিয়ে সাজানো হয়েছিল এক মহাপরিকল্পনা, যা বদলে দিতে পারত পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি। তবে নিয়তির পরিহাস, সেই মহাপরিকল্পনা এখন কেবলই সরকারি ফাইলের ধুলোবালি মাখা এক ‘চমকপ্রদ গল্প’।
সিলেটের পর্যটন খাতের আধুনিকায়নে জাফলং, রাতারগুল, বিছনাকান্দি, পান্তুমাই, লালাখাল ও ভোলাগঞ্জকে কেন্দ্র করে নেওয়া মহাপরিকল্পনা এখনো শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ঘোষণার দীর্ঘদিন পরও প্রকল্পগুলোর বাস্তব কোনো অগ্রগতি বা দৃশ্যমান অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। ভাঙাচোরা রাস্তা, যাতায়াতের অব্যবস্থাপনা এবং মৌলিক সুবিধার অভাবে পর্যটকরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এই মাস্টারপ্ল্যান কেন আলোর মুখ দেখছে না এবং কোথায় আটকে আছে এর বাস্তবায়ন-তা জানেন না কেউ।
গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর ‘সিলেট পর্যটন মাস্টারপ্ল্যান কমিটি’র সদস্যরা বিভিন্ন পর্যটন এলাকা পরিদর্শন করেন। কমিটির সভাপতি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. বজলুর রশিদের নেতৃত্বে কমিটিতে পরিবেশ বিজ্ঞান, স্থাপত্য, নগর পরিকল্পনা, পর্যটন ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের বিশেষজ্ঞরা ছিলেন।
কমিটির সদস্যরা সকালে সাদাপাথর ও বিকেলে জাফলং পর্যটন এলাকা ঘুরে দেখেন। তারা পর্যটনকেন্দ্রগুলোর বর্তমান অবস্থা, পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রাসহ মাঠপর্যায়ে নানা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন।
সাদাপাথর ঘুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন কমিটির সভাপতি ড. বজলুর রশিদ। জানিয়েছিলেন, সরকার একটি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর উন্নয়ন, পর্যটকদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। পরিকল্পনায় জলাভূমি, নদী, পাহাড় ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, সিলেটের জাফলং, সাদাপাথর, বিছনাকান্দি, উৎমাছড়াসহ ছয়টি পর্যটনকেন্দ্রের পর্যটকদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা যেমন উন্নত সড়ক যোগাযোগ, পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সেবা, পরিচ্ছন্নতা এবং তথ্যসেবা কেন্দ্র গড়ে তোলার সুস্পষ্ট রূপরেখা রয়েছে।
তবে কমিটির পরিদর্শন ও আশা জাগানিয়া বক্তব্যের পর সরকার বদল হয়েছে। বছরও ঘুরেছে। কিন্তু পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কতদূর এগিয়েছে-তা ই এখন বড় প্রশ্ন!





