কোম্পানীগঞ্জে বালু খেকোদের হামলায় জেলা প্রশাসনের ২ ভলেন্টিয়ার আহত
প্রকাশিত হয়েছে : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৯:০৪:৫৫ অপরাহ্ন

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে বালুপাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করছে। প্রশাসনের এসব অভিযানে প্রায়ই অবৈধ বালুপাথর উত্তোলনকারীরা হামলা চালাচ্ছে। সরকারি কাজে বাঁধা ও প্রশাসনের লোকজনের উপর হামলা হলেও কার্যকরি পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। যার ফলে বাড়ছে হামলার প্রবণতা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভলেন্টিয়ার ও নাইট গার্ডরা ধলাই নদীতে টহলে গেলে তাদের উপর হামলা হয়। এ ঘটনায় তজমুল আলী ও মইন উদ্দিন নামে জেলা প্রশাসনের নিয়োজিত ২জন ভলেন্টিয়ার আহত হন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত তজমুল আলীর মাথায় বেশ কয়েকটি সেলাই ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। আর মইন উদ্দিনের হাতে পায়ে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাদেরকে কোম্পানীগঞ্জ মেডিকেলে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
গত মে মাসে ধলাই সেতু রক্ষায় মোবাইল কোর্টের অভিযান চলাকালে উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদারের উপর হামলা হয়। এতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) গাড়িচালক নাসিম, উপজেলা ভলেন্টিয়ার মঈন উদ্দিন, তারেক, নাজিম ও আমান মিয়া আহত হন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) কিছুটা আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে মোবাইল কোর্টে থাকা আনসার সদস্যরা ৪ রাউন্ড গুলি ছুঁড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এবছরের জানুয়ারিতে ধলাই নদীর বাংকার থেকে পাথর উত্তোলনে বাঁধা দেওয়ায় রাসেল আহমদ নামে এক ভলেন্টিয়ারকে মেরে হাত ভেঙ্গে ও মাথা ফাটিয়ে গুরুতর আহত করে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারীরা। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে বেশ কিছুদিন চিকিৎসা শেষে তিনি সুস্থ হলেও এখনো বাম হাত দিয়ে তেমন কিছু করতে পারেন না। এ ঘটনায় রাসেলের পিতা বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। রাসেলকে মারধরের হোতা ও মামলার আসামি মনির মিয়া এখন প্রশাসনের সোর্স হিসেবে কাজ করে। এ সুযোগ নিয়ে এলাকায় সে বেপরোয়া ভাবে বালুপাথর উত্তোলন করছে।
গত আগষ্ট মাসে আরেক ভলন্টিয়ার তারেক মিয়ার উপর হামলা চালায় ভোলাগঞ্জ গুচ্ছগ্রামের বালুপাথর উত্তোলনকারীরা। তাদের হামলায় তারেক ও তার ভাই তেরা মিয়াকে আহত হোন।
বারবার প্রশাসনের অভিযানে হামলা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। শুধুমাত্র মামলা দিয়েই কার্যক্রম শেষ করেছে। মামলার পর আসামিদের সাথে পুলিশের শখ্যতা নিয়ে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও আলোচনা হয়। তাছাড়া মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিলেও তারা আদালত থেকে সাজা পূর্ণের আগেই জামিন নিয়ে আসে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া জানান, আমরা হামলাকারীদের চিহ্নিত করেছি। যারা ভলেন্টিয়ারদের উপর হামলা করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





