মুরগি সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে
প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ মার্চ ২০২৩, ১২:১৫:৫৯ অপরাহ্ন

দৈনিক জালালাবাদ এ ‘সিন্ডিকেটের কবলে মুরগি ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিগত যে কোন সময়ের চেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে মুরগি সিন্ডিকেট। ফলে মধ্যবিত্তের আমিষের প্রধান অবলম্বন মুরগিও এখন নাগালের বাইরে। প্রায়ই প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা করে বাড়ছে এর দাম। সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ সত্বেও বাড়ছে মুরগির দাম। বিশেষভাবে ব্রয়লার মুরগির দাম এখন অস্বাভাবিক বেশি। গত ক’দিনে এর দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে প্রায় একশ’ টাকা। হঠাৎ এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পর যখন মিডিয়ায় লেখালেখি শুরু হয়, তখন ভোক্তা অধিদপ্তরকে কিছুটা নড়ে বড়ে ওঠতে দেখা যায়। এটাও আই ওয়াশ কি-না, তা বুঝা যাচ্ছে না, এমন মন্তব্য ভুক্তভোগিদের। কারণ সরকারি হুমকি ধমকিকে গায়ে মাখতে দেখা যাচ্ছে না সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী চক্রকে। সবচেয়ে বড়ো কথা, সাধারণ খুচরো বা পাইকারি ব্যবসায়িদের লোক দেখানো ধমক ধামক দেয়া হলে সিন্ডিকেট ব্যবসায়িদের ধরা হচ্ছে না, তারা থেকে যাচ্ছে স্পর্শহীন। যাদের হাতে মূল্যবৃদ্ধি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির কলকাঠি, তারা থেকে যাচ্ছে নাগালের বাইরে।
বলা বাহুল্য, মুরগির এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে যে অসৎ সিন্ডিকেট ব্যবসায়িদের কারসাজি রয়েছে, এতে কোন সন্দেহ নেই। ডলারের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে তারা তাদের ইচ্ছেমতো অস্বাভাবিক হারে পোল্ট্রির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এমন অভিযোগ সচেতন মহলের। বিগত বছরগুলোতে এদেশে প্রায় প্রতিটি নিত্যপণ্য নিয়ে কারসাজি করতে দেখা গেছে এই অসাধু ব্যবসায়ি সিন্ডিকেটকে। এদেশের জনগনের যেসব পণ্যের উপর নির্ভরশিলতা বেশি, সেগুলোকেই তারা টার্গেট করে থাকে। বিশেষভাবে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে তাদের আগ্রহ বেশি। ইতোপূর্বে পেঁয়াজ নিয়ে তারা সারাদেশে তুলকালাম কা- সৃষ্টি করে। ফলে প্রতি কেজি ২৫/৩০ টাকার পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায় দু’শো আড়াইশ’ টাকায়। তেল ও চাল নিয়ে কারসাজি এখনো থেমে নেই। সর্বশেষ পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজি করতে গিয়ে দেশে উৎপাদন বৃদ্ধিসহ নানা কারণে তাদের পেঁয়াজ সি-িকেটিং মার খায়। নষ্ট হয়ে যায় হাজার হাজার টন পেঁয়াজ। এরপর থেকে সিন্ডিকেট ব্যবসায়িরা পেঁয়াজ বাদ দিয়ে ধরেছে মুরগির মাংসকে।
বলা বাহুল্য, সিন্ডিকেট হলো ব্যক্তি, কোম্পানি, কর্পোরেশন বা সংস্থার একটি স্বগঠিত গোষ্ঠি বা গ্রুপ যা কিছু নির্দিষ্ট ব্যবসায় লেনদেন করার জন্য অথবা একটি অংশিদারিত্বমূলক স্বার্থ অনুসরণে বা প্রচারের উদ্দেশ্যে গঠিত হয়। এটা সৎ ব্যবসা বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে হতে পারে, আবার প্রতারণার উদ্দেশ্যেও হতে পারে। একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত ‘অসৎ সিন্ডিকেট’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এদেশ যেনো একটি সিন্ডিকেটের আঁতুড় ঘর হয়ে ওঠেছে। সবক্ষেত্রেই সিন্ডিকেট। কাঁচা বাজারে সি-িকেট, মুদি বাজারে সিন্ডিকেট, পেঁয়াজে সিন্ডিকেট, ডিমে সিন্ডিকেট। চাকুরি, খেলাধুলা এমনকি সড়ক, রেল ও বিমান পরিবহনেও সিন্ডিকেট। যারা এই সিন্ডিকেট করে তাদের যেনো দয়ামায়া ধর্ম মনুষ্যত্ব ও নীতি নৈতিকতা বলতে কিছু নেই।
যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও মাঝে মাঝে সিন্ডিকেটিংয়ের খবর পাওয়া যায়। তবে যে সব দেশে সিন্ডিকেটিং তথা মার্কেট ম্যানুপুলেশন প্রতিরোধে সরকারের শক্তিশালি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তারা ভোক্তা ও গ্রাহকদের সুরক্ষা বা স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব পালন করে। কোন প্রতিষ্ঠান মার্কেট কার্টেল হিসেবে পরিচিত মার্কেট ম্যানুপুলেশনে জড়িত পেলে বড়ো অংকের জরিমানা করে থাকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে। তাই ঐসব দেশে ভোক্তা, ক্রেতা বা গ্রাহকরা বহুলাংশে সুরক্ষিত ও নিরাপদ। কিন্তু বাংলাদেশে এর উল্টোটি দেখা যায়।




