সিলেট-ঢাকা যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে সরকার : সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ মে ২০২৬, ৬:২৭:১৩ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : সরকার ঢাকা-সিলেট পথে ‘সড়ক ও রেল’ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ শুরু করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান| তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় যখন প্লেনে এসেছিলাম, কিন্তু যাবার সময় আমি সড়ক পথে গিয়েছিলাম নির্বাচনি জনসভা করতে করতে এবং সেদিন আমি বলেছিলাম যে, সিলেট থেকে লন্ডন যেতে খুব সম্ভবত নয়-সাড়ে ৯ ঘণ্টা সময় লাগে, কিন্তু বাই রোড ঢাকা যাবার অবস্থা রাস্তার অবস্থা এতই খারাপ প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লেগে যায় এবং সেদিন বলেছিলাম যে, আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে ইনশাআল্লাহ আমরা এই কাজটিতে হাত দিব যাতে এটা দ্রুত হয়| গতকাল শনিবার (২ মে) সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন| সিসিকের সুরমা নদীর দুই পাড়ে সৌন্দর্যবর্ধনসহ বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে এই সুধী সমাবেশ হয়|
সুধী সমাবেশে তারেক রহমান আরও বলেন, সরকার গঠন করার পরে এই দায়িত্বে যে মন্ত্রণালয় আছে, আমি তাদের সাথে কথা বলেছি| সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে| আমি আশা করছি, ইনশাআল্লাহ দ্রুততম সময় আমরা এই কাজটি শুরু করতে পারব| প্রধানমন্ত্রী বলেন, সময় লাগবে, তবে কাজটি শুরু করলে ইনশাল্লাহ আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমরা এটা ইনশাল্লাহ শেষ করতে পারব| তার ফলে মানুষের যাতায়াতে ঢাকা টু সিলেট, সিলেট টু ঢাকা বাই রোড যাতায়াতের এত কষ্ট মানুষকে ইনশাল্লাহ ভোগ করতে হবে না|
ঢাকা-সিলেট রেলপথকে ডাবল লাইনে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার একটি উদ্যোগ গ্রহণ করছে যে, সারাদেশে কীভাবে রেল যোগাযোগটাকে বৃদ্ধি করা যায়| রেল যোগাযোগটাকে বৃদ্ধি করলে ¯^াভাবিকভাবে অধিকাংশ মানুষ এটিতে যাতায়াত করবেন, এটিতে খরচ কম হবে, সেটি ব্যবসায়িক কারণে খরচ কম হবে| রেলপথের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা রাস্তা যতই বড় করতে থাকি, ততই গাড়ি নামবে রাস্তায়| ট্রাফিক বাড়বেই| আরেকটি বিষয় আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আমরা পৃথিবীর খুব সম্ভবত অষ্টম স্থানে আছি|
তারেক রহমান বলেন, কিন্তু আমরা ল্যান্ডওয়াইজ যদি চিন্তা করি আমাদের দেশটা হয়তো অত বড় না| অনেক দেশ থেকেই ছোট| আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাংলাদেশ হচ্ছে একটি কৃষি প্রধান দেশ| সেজন্য রাস্তা যদি নির্মাণ করি, একই সাথে কিন্তু আমাদের ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে, সেই বিষয়টাকে আমাদের মাথায় রাখতে হবে|
সরকারপ্রধান বলেন, এত বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর খাবার তো বিদেশ থেকে ইমপোর্ট করা সম্ভব না এবং আমরা আলহামদুলিল্লাহ মোটামুটিভাবে খাদ্য ¯^য়ংসপূর্ণ | কাজেই এটিকে আমাদের ধরে রাখতে হবে| অবশ্যই রাস্তার উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন করব, কিন্তু রেলটাকে আমরা ডেভেলপ করতে চাই| আপনারা নিশ্চয়ই ইন্টারেস্টেড হবেন যে, ঢাকা-সিলেট বা সিলেট-ঢাকার রেল ব্যবস্থার উন্নয়ন| আমরা চেষ্টা করছি সিলেটে ডাবল লাইন কীভাবে করা যায়? ডাবল লাইনের মাধ্যমে এই সমস্যাটা সমাধান করা যায় ? শুধু সিলেট নয়, সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী|
ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার বাড়তেই থাকলে ভবিষ্যতে যে সংকটে পড়তে হবে, সেই কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আন্ডার গ্রাউন্ড পানি ব্যবহার বেশি করে মাটির নিচে এই পানির ওয়াটার লেভেল যেটা আছে, সেটা ধীরে ধীরে নিচে নেমে যাচ্ছে- সেটিও মাথায় রাখতে হবে| আমরা পুরো পরিস্থিতিটাকে এখনই অ্যাড্রেস করতে চাই, তাহলে সবচেয়ে প্রথম যে উপায়টি হচ্ছে- আমাদেরকে খাল খনন করতে হবে এবং খাল খননের মাধ্যমে এই যে পানিগুলো দেখুন বর্ষার সময়, বৃষ্টির সময় এত পানি আসছে তা জলাধার ˆতরি করে কাজে লাগাতে হবে|
সিলেটের ¯^াস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, সিলেটে বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা ২০০ শয্যার হাসপাতালটি দ্রুত চালু করা হবে| এছাড়া সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ১২০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রচেষ্টা চলছে| চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে সরকার ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করবে বলে| তিনি বলেন, এই ¯^াস্থ্যকর্মীদের ৮০ শতাংশই হবেন নারী| তারা গ্রামে গ্রামে মানুষের বাড়িতে গিয়ে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতন করবেন| কোন খাবার বেশি খেলে কোন রোগ হয়, এসব বিষয়ে মানুষকে অবগত করবেন|
বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যত দ্রুত সম্ভব বন্ধ কারখানাগুলো চালু করার উদ্যোগ নিয়েছি| প্রয়োজনে প্রাইভেট খাতে ছেড়ে দিয়ে হলেও এগুলো সচল করা হবে| এতে কর্মসংস্থান বাড়বে| আমরা বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করারও চেষ্টা করছি|
সিলেটের আইটি পার্ক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেটে একটি আইটি পার্ক আছে কিন্তু সেটি সচল নেই| আমরা এটি দ্রুত সচল করার চেষ্টা করছি, যাতে তরুণরা এখানে কাজের সুযোগ পায়| এছাড়া দেশের ভোকেশনাল সেন্টারগুলো আপডেট করার উদ্যোগও নিয়েছে সরকার|
সিলেটের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, এয়ারপোর্ট থেকে আসার সময় দেখছিলাম বৃষ্টির কারণে পানি জমে গেছে| বৃষ্টির কারণে সুনামগঞ্জের অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন| এছাড়া সব নগরেই ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য হুমকি| এজন্য আমরা খাল খনন কর্মসূচি নিয়েছি| এতে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা যাবে এবং জলাবদ্ধতাও নিরসন হবে| নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে সুরমা তীরের মেগা প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, একটু আগে যে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলাম, এটি বাস্তবায়ন হলে সিলেটে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না|
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সংসদের হুইপ জি কে গউছ| অনুষ্ঠানে অতিথি সারিতে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শাম্মী আখতার, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী| স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার|
সিলেটে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প উদ্বোধন : সিলেট নগরীর চাঁদনীঘাট এলাকায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান| শনিবার (২ মে) সকাল পৌনে ১১টার দিকে তিনি এ প্রকল্প উদ্বোধন করেন| এসময় তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন| এই মেগা প্রকল্পের আওতায় পর্যটন নগরী সিলেটের উন্নয়নে একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে|
সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)-এর প্রশাসক কাইয়ুম চৌধুরী জানান, সিলেট নগরকে ‘গ্রীণ অ্যান্ড ক্লিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে সুরমা নদী কেন্দ্রিক এই বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সিসিক| নদীর দুই তীর জুড়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকা সংরক্ষণ ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে| এই প্রকল্পের আওতায় নদীর দুই তীরে শক্তিশালী বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে| পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য ওয়াকওয়ে নির্মাণ, নদী তীর সৌন্দর্য বর্ধন, সুইট গেট স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে| তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেট নগর নতুন করে পরিচিতি লাভ করবে|




