হাওরে বন্যায় ধানের ক্ষতি প্রভাব পড়তে পারে চালের বাজারে
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ মে ২০২৬, ৬:২৮:২৪ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : এ বছর হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের ভালো ফলনের আশা ছিল| কৃষকেরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফসল কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজ করছিলেন| কিন্তু এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহে থেকে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ফসল রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা| ভারী বৃষ্টি, নদীর পানি বৃদ্ধি ও ভারতের উজান থেকে আসা ঢলে ধান কাটার মৌসুমে হাওরাঞ্চলের অনেক জমি তলিয়ে গেছে| এতে ধান উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা ও দামের ওপর ঝুঁকি ˆতরি হয়েছে|
তথ্য বলছে, বোরো শুষ্ক মৌসুমের সেচনির্ভর ধান| এটি ডিসে¤^র থেকে ফেব্রুয়ারির শুরু পর্যন্ত রোপণ করা হয়| আর কাটা হয় এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে| এই মৌসুমে দেশের মোট চাল উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি হয়| শুধু সাতটি হাওর জেলা গত মৌসুমে দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জোগান দিয়েছে|
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম চাল উৎপাদনকারী বাংলাদেশের জন্য এই মৌসুমের উৎপাদনে বড় ধরনের বিঘ্ন খাদ্য নিরাপত্তায় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে| তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাজারে দামের প্রভাব বোঝা যাবে আরও ২ সপ্তাহ পর|
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হাওরের ৭ জেলায় বোরো ধানের প্রায় ১৭ শতাংশ বন্যার ঝুঁকিতে ছিল| এ বছর সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া—এই সাতটি হাওর জেলায় ৯ দশমিক ৬৩ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে| এর প্রায় অর্ধেক হাওর এলাকায় অবস্থিত| এর মধ্যে ৭৭ হাজার হেক্টরের বেশি জমি প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে|
তথ্য মতে, গত বোরো মৌসুমে প্রতি হেক্টরে গড়ে ৪ টনের বেশি ফলন হয়েছিল| সেই হিসাবে এবার ৩ লাখ টনেরও বেশি ধান ঝুঁকিতে রয়েছে| অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এটি গত মৌসুমের মোট ২ দশমিক ১৩ কোটি টন বোরো উৎপাদনের প্রায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ|
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) মো. জামাল বলেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হাওরের ৬৩ দশমিক ৯১ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে| এদিকে, সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ের আগে অবস্থার উন্নতির সম্ভাবনা নেই|
বন্যা এমন একটি ফসলকে আঘাত করছে, যা ইতোমধ্যেই চাপের মধ্যে রয়েছে| যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এ মৌসুমে ধান উৎপাদন শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমতে পারে| এতে আরও বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে জ্বালানি ও সার সংকটের ফলে সেচ-সার ব্যবহারে বিঘ্ন ঘটায় বোরো ফলন কমার জন্য আংশিকভাবে দায়ী|
নওগাঁ ধান-চাউল আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নিরোদ বরণ সাহা বলেন, আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি বোঝা যাবে| তিনি বলেন, উত্তরের এই অঞ্চলে ফলন ভালো হলে হাওরের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে| একইসঙ্গে বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা আসতে পারে| তবে পুরো ফসল কাটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসল প্রভাব বোঝা যাবে না| তাই এখনই সিদ্ধান্তে আসা ঠিক হবে না|
খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (ক্রয়) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ক্ষতির পরিমাণ খুব বেশি হবে না| ফলে বাজারে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না| অর্থনীতিবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল বায়েস বলেন, এ বছরের বৃষ্টিজনিত ক্ষতি জাতীয় দামে খুব সামান্য প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে| তবে সরকারের প্রায় ১৩ লাখ টন মজুত বড় ধরনের বাজার অস্থিরতা ঠেকাতে সহায়তা করবে|
অন্যদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে| বুধবার খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে উচ্চপর্যায়ের এক ˆবঠকে কৃষকদের বেসরকারি চালকল ও সরকারি গুদাম ব্যবহার করে বিভাগীয় সহায়তায় ধান শুকানোর অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়|




