দিরাইয়ে পিতার হাতে ২ শিশু খুন
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ আগস্ট ২০২৬, ৭:৪১:১৫ অপরাহ্ন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে দুই শিশু সন্তানকে হত্যার অভিযোগে পিতা কামরুল মিয়াকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ। গত দুই দিনে দেখার হাওর থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত দুই শিশুর মরদেহই তার সন্তান বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
নিহত দুই শিশু হলো-মুহাদ্দিস (৭) ও তুলনা (৪)। অভিযুক্ত কামরুল উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের গেরুয়া গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (৮ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে কামরুল নিজ বসতঘর থেকে বের হন। এ সময় তার চার সন্তানের মধ্যে মুহাদ্দিস ও তুলনাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। দিন গড়িয়ে রাত হলেও তারা বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। তবে তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর মিয়া জানান, সোমবার রাত ১০টার দিকে কামরুল একাই বাড়িতে ফেরেন। সন্তানদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, সিলেটে তার দুই সন্তান হারিয়ে গেছে। কামরুলের কথাবার্তায় অসংলগ্নতা দেখা দিলে মঙ্গলবার স্থানীয়রা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তিনি বুধবার সবকিছু খুলে বলবেন বলে জানান।
বুধবার সকাল ১১টার দিকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে এলাকাবাসীর সামনে কামরুল তার দুই সন্তানকে পানিতে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে খবর পেয়ে দিরাই থানা পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে, মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশ দেখার হাওর থেকে একটি অজ্ঞাত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। বুধবার সকালে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ একই হাওর থেকে আরও একটি অজ্ঞাত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে।
কামরুলের স্বীকারোক্তি ও দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহ দুটি তার সন্তান মুহাদ্দিস ও তুলনার বলে শনাক্ত করা হয়। পরে মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কামরুল মিয়াকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে। ঘটনাটি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় গেরুয়া গ্রামসহ পুরো দিরাই এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন স্থানীয়রা।





