জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় বাড়তে পারে ৪.৮ বিলিয়ন ডলার
প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ মার্চ ২০২৬, ৯:১০:২৬ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বাংলাদেশের বার্ষিক জ্বালানি আমদানি ব্যয় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন (৪৮০ কোটি) ডলার বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিরো কার্বন অ্যানালিটিকসের (জেডসিএ) এক নতুন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই ব্যয় ২০২৫ সালের তুলনায় অন্তত ৪০ শতাংশ বেশি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি আমদানিতে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে। জেডসিএ বলছে, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও কয়লার বর্ধিত এই দাম যদি এক বছর স্থায়ী হয়, তবে তা বাংলাদেশের ২০২৪ সালের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ১ শতাংশের সমান আর্থিক ক্ষতির কারণ হবে। জ্বালানি আমদানিতে বাড়তি ব্যয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকেও চাপে ফেলবে। এতে আমদানির ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা ৫ দশমিক ৭ মাস থেকে কমে ৪ দশমিক ৯ মাসে নেমে আসতে পারে। জিরো কার্বন অ্যানালিটিকসের মতে, আমদানি ব্যয় বাড়লে টাকার অবমূল্যায়ন হতে পারে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ার পাশাপাশি ঋণের সুদহার বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর চাপ তৈরি হবে।
ওই প্রতিবেদনে জেডসিএর বিশ্লেষকেরা বলেছেন, এ ধরনের সংকট বারবার ফিরে আসছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়কার মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কাই এর প্রমাণ। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরে দেরির কারণেই বাংলাদেশকে এই চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি কীভাবে সংকটে পড়েছিল, তা-ও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। ওই সময় এশিয়ায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম ৩৯০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। যুদ্ধের পাঁচ মাস পর দাম বাড়ে আরও ৪৮ শতাংশ। এর ফলে ২০২২ সালের অক্টোবরে লোডশেডিংয়ের কারণে দেশের প্রায় ১৩ কোটি মানুষকে ভুগতে হয়েছিল। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণে ঢাকার অসহায়ত্ব এখন স্পষ্ট। ২০২৩ সালে দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার ৪৬ শতাংশই মেটানো হয়েছিল আমদানি থেকে। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদ্যুতের জ্বালানির ৬৫ শতাংশ ছিল আমদানিনির্ভর।
একের পর এক এমন জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলেও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রশ্নে থমকেই আছে বাংলাদেশ। ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে প্রতিবছর ৭৬০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা প্রয়োজন। অথচ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্মাণাধীন প্রকল্পের সক্ষমতা মাত্র ৩৫৮ মেগাওয়াট। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্যমতে, ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশের মোট জ্বালানির মাত্র ২ শতাংশ এসেছে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে। ২০২৪ সালেও এর তেমন কোনো উন্নতি হয়নি।
ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) মতে, ২০০৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মাত্র ১ হাজার ৪৪৬ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ যুক্ত হয়েছে। এর বিপরীতে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ৪১টি নতুন এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। এতে বর্তমান সক্ষমতার তিন গুণ বা ৩৫ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে, যার প্রায় পুরোটাই হবে এলএনজিনির্ভর।
জেডসিএ তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, অস্থির বাজারের বাড়তি দাম মেটাতে গিয়ে যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ করা যেত। এতে ভবিষ্যৎ সংকট থেকে রক্ষা পেত বাংলাদেশ।






