ভারতে গঙ্গোত্রী মন্দিরে প্রবেশ করতে পান করতে হবে ‘গোমূত্র’
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৭:৫০:১৫ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উত্তরাখণ্ডের হিমালয় অঞ্চলে অবস্থিত হিন্দু তীর্থস্থান গঙ্গোত্রী মন্দির-কে ঘিরে একটি নতুন নিয়ম নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মন্দিরে প্রবেশের আগে প্রত্যেক দর্শনার্থীকে এখন বাধ্যতামূলকভাবে ‘পঞ্চগব্য’ সেবন করতে হবে।
এই পঞ্চগব্য হলো পাঁচটি উপাদান—দুধ, দই, ঘি, মধু এবং গোমূত্র—মিশিয়ে তৈরি একটি পানীয়। মন্দির পরিচালনা কমিটির দাবি অনুযায়ী, এটি মূলত একটি “বিশ্বাসের পরীক্ষা” হিসেবে চালু করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, যারা প্রকৃত ভক্ত ও সনাতনী বিশ্বাসে আস্থাশীল, তারা এটি গ্রহণ করতে আপত্তি করবেন না। অন্যদিকে, যারা ধর্মীয় বিশ্বাস ছাড়াই বা অন্য উদ্দেশ্যে মন্দিরে প্রবেশ করেন, তাদের আলাদা করে চিহ্নিত করাই এই নিয়মের উদ্দেশ্য।
মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান ধর্মেন্দ্র সেমওয়াল স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে জানান, এই ব্যবস্থা অবিশ্বাসী বা অ-সনাতনী ব্যক্তিদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের জন্য নেওয়া হয়েছে। তার মতে, এটি ধর্মীয় শুদ্ধতা ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করবে এবং ভক্তদের মধ্যে বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মন্দিরের প্রধান প্রবেশদ্বারে নিয়োজিত কর্মীরা দর্শনার্থীদের ভেতরে ঢোকার আগে এই মিশ্রণ পান করাবেন। কমিটির পক্ষ থেকে এটিকে “পবিত্র জল” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, এটি গ্রহণ করলে ভক্তরা নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করবেন।
এই সিদ্ধান্তটি এসেছে হিন্দু ধর্মের অন্যতম বৃহৎ তীর্থযাত্রা চারধাম যাত্রা শুরু হওয়ার প্রাক্কালে। এই যাত্রায় প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত হিমালয়ের দুর্গম এলাকায় অবস্থিত চারটি প্রধান তীর্থস্থান—যমুনোত্রী, গঙ্গোত্রী, কেদারনাথ ও বদ্রীনাথ—পরিদর্শন করেন। সাধারণ রীতি অনুযায়ী, প্রথমে যমুনোত্রী, এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য মন্দির দর্শন করা হয়।
তবে এই নতুন নিয়মকে ঘিরে সমালোচনাও কম নয়। অনেকের মতে, ধর্মীয় স্থানে প্রবেশের জন্য এ ধরনের শর্ত আরোপ করা অ-হিন্দু বা ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষের প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করতে পারে। আবার কেউ কেউ বলছেন, এটি ভারতীয় মন্দিরগুলোর ঐতিহ্যগত “সবার জন্য উন্মুক্ত” চরিত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
অন্যদিকে, গোমূত্র ব্যবহার নিয়ে ভারতে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক রয়েছে। কিছু ধর্মীয় ও রাজনৈতিক গোষ্ঠী, বিশেষ করে ভারতীয় জনতা পার্টি-সংশ্লিষ্ট মহল, এটিকে পবিত্র ও উপকারী বলে প্রচার করে থাকে। আবার আধুনিক চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করেছেন যে, এর কোনো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত চিকিৎসাগত উপকারিতা নেই।
তীর্থ মৌসুমে লক্ষাধিক মানুষের সমাগমের কারণে এই নিয়ম বাস্তবে কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শুধু গঙ্গোত্রী মন্দিরেই গত বছর লক্ষাধিক দর্শনার্থী গিয়েছিলেন, এবং পুরো চারধাম যাত্রায় কয়েক মিলিয়নেরও বেশি তীর্থযাত্রী অংশ নেন। ফলে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে এই নিয়ম বাস্তবায়ন করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।




