ঘটা করে চালু সিলেটে ‘কৃষকের হাট’ ক্রেতা-বিক্রেতা শুণ্য
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৯:৫৬ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : ব্যাপক আয়োজনের মাধ্যমে ঘটা করে সিলেটে উদ্বোধন হয় দেশের প্রথম ‘কৃষকের হাট’| নগরীর টিলাগড় পয়েন্ট এলাকায় চলতি মাসের ১১ এপ্রিল হাটের উদ্বোধন করেন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির| সিলেট জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ‘সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে নিরাপদ ও তাজা পণ্য’ স্লোগানে শুরু হওয়া কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল প্রান্তিক কৃষকরা কোনো মধ্য¯^ত্বভোগী ছাড়াই তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রির সুযোগ পাবেন|
কিন্তু উদ্বোধনের পর থেকে কেবল কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বহুল প্রতাশিত দেশের প্রথম ‘কৃষকের হাট’টি| উদ্বোধনের পর প্রতিদিন সকালে এই হাট বসার কথা থাকলেও একদিনের জন্যও জমে উঠেনি হাট|
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সপ্তাহে দুইদিন শনি ও মঙ্গলবার হাট বসছে| তবে সময় নির্ধারণ না থাকায় কৃষকেরা তাদের ইচ্ছেমতো আসায় অনেকের নজর এড়িয়ে যাচ্ছে| যদিও গত শনি ও মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে কৃষকের হাটে দেখা মিলেনি কৃষকের| ফলে সরকারের এই উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করছেন কেউ কেউ|
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাটে যাওয়া নিয়ে আগ্রহ নেই খোদ কৃষকের| একাধিক কৃষক জানান, আমরা প্রান্তিক কৃষক| আমাদের সবজি প্রতিদিন তোলা হয়না| কোন কোন জাতের সবজি সপ্তাহে একবার কোনটা সপ্তাহে দুইবার তোলা হয়| সুতরাং চাইলেই শনি ও মঙ্গলবার সবজি তোলা যায়না, তাই হাটেও যাওয়া হয়না| এছাড়া বর্তমানে ভ্যানে করে বাসায় বাসায় সবজি বিক্রেতারা চলে যায় ফলে ক্রেতাদের উপস্থিতিও তেমন থাকেনা| ফলে প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে আগ্রহের পরিবর্তে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন|
কৃষকদের দাবী, গুটি কয়েক কৃষককে নিয়ে একটি হাট চালানো যায়না| হাটের পরিচিতি বাড়াতে হবে| কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে| হাট জমে উঠলে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়বে কৃষকরাও উৎসাহিত হবে| অন্যথায় শুধু লোক দেখানো হাটে গেলে কৃষকরা উপকৃত হবেনা|
জানা গেছে, প্রতিবছর ঈদুল আযহায় এই জায়গাটিতে কুরবানীর পশুর হাট বসে| আগামী ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে একটি চক্র কৃষকের হাটে অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর পরিকল্পনা করছে| ইতোমধ্যে এই চক্রটি তোড়জোড় শুরু করেছে বলেও জানা গেছে|
হাটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাগণ জানিয়েছিলেন, টিলাগড় পয়েন্টের নির্ধারিত স্থানে প্রতিদিন সকালে হাটের কার্যক্রম চলবে| এখানে সিলেটের প্রান্তিক কৃষকরা কোনো ধরনের মধ্যস্থতাকারী বা দালালের সহায়তা ছাড়াই তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করার সুযোগ পাবেন| বাজারটির মূল লক্ষ্য ছিলো মাঠপর্যায়ের কৃষক এবং শহরের সাধারণ ভোক্তার মধ্যে একটি সরাসরি সেতুবন্ধন ˆতরি করা|
বর্তমানে একটি কৃষিপণ্য মাঠ থেকে ভোক্তার থালা পর্যন্ত পৌঁছাতে অন্তত চার থেকে পাঁচবার হাতবদল হয়| এতে প্রতিটি স্তরে দাম বাড়লেও তার সুফল কৃষকরা পান না; বরং চাষের খরচ তোলা নিয়ে তাদের চরম ঝুঁকিতে থাকতে হয়| অন্যদিকে, সাধারণ ক্রেতাদের গুনতে হয় চড়া দাম| এই ‘কৃষকের হাট’ চালু হলে ন্যায্য মূল্য কৃষক তার শ্রমের সঠিক দাম সরাসরি পাবেন| সাশ্রয়ী দামে বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে সতেজ ও বিষমুক্ত সবজি পাবেন সাধারণ ক্রেতারা| সিন্ডিকেট নির্মূলে মধ্য¯^ত্বভোগীদের অতিরিক্ত মুনাফাখোরি প্রবণতা হ্রাস পাবে| তবে হাট চালুর ১০ দিনেও আলোর মুখ দেখেনি কৃষকের হাট| ক্রেতা দুর থাক, খোদ কৃষকদের হাটে টানতে পারছেনা সরকারের এই উদ্যোগ|
কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সিলেটের সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আবুল সালেহ মোঃ হুমায়ুন কবির জানান, কৃষকের হাটের বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সমš^য় করছেন| তাই এ বিষয়ে আপডেট তথ্য আমার কাছে নেই|
এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের উপ-পরিচালক মো. শামসুজ্জামান দৈনিক জালালাবাদকে বলেন, পরিকল্পনা মোতাবেক হাটের কাজ চলছে| বর্তমানে সিলেটে ঝড়বৃষ্টির কারণে তেমন সবজি তোলা হচ্ছেনা ফলে কৃষকের উপস্থিতি কিছুটা কম| একটি ওয়াটসআপ গ্রুপের মাধ্যমে কৃষকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে| এছাড়া তাদের সাথে নিয়মিত ˆবঠক হচ্ছে| আপাতত আমরা শনি ও মঙ্গলবার হাটের তারিখ নির্ধারণ করেছি| তবে সময়টা নির্ধারণ হয়নি| এই দুইদিন হাট খোলা থাকে| কৃষকরা তাদের সুবিধেমতো সময়ে এখানে আসে এবং পণ্য বিক্রি করে চলে যায়| তাই সকালে গেলে কৃষকদের দেখা নাও মিলতে পারে|
ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে পশুর হাটের জন্য মাঠ দখলের ব্যাপারে তিনি বলেন, এমন কোন তথ্য আমাদের জানা নেই| তবে কোন অবস্থাতেই কাউকে মাঠ দখল করতে দেয়া হবেনা| কারণ ¯^য়ং বাণিজ্যমন্ত্রী মহোদয় এই হাটের উদ্বোধন করেছেন| বিষয়টি মন্ত্রী মহোদয়ের দৃষ্টিগোচরে রয়েছে|
এ বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি|




