সিলেটের ক্রীড়াকাশে অ্যাডহকের ছায়া
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:৫৫:৩১ অপরাহ্ন
এবার বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থায়ও ৭ সদস্যের কমিটি
স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটের ক্রীড়াকাশে এখন অ্যাডহকের ছায়া। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শুরু, নির্বাচিত বিএনপি সরকারের সময়েও ক্রীড়া সংস্থাগুলো সাময়িক ব্যবস্থার গোলকধাঁধায়। এবার সেই আবর্তে জড়াল বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাও।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি ঘোষণার তিনদিনের মাথায় এবার সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার নতুন অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। বিভাগীয় কমিশনারকে সভাপতি এবং স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলুকে সদস্য সচিব করে বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার ৭ সদস্যের নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামান খান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানাানো হয়েছে।
নবগঠিত এই আহবায়ক কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি), পুলিশ কমিশনার, স্থানীয় সরকার পরিচালক, বিভাগীয় সমবায় অফিসের যুগ্ম নিবন্ধক এবং স্থানীয় ক্রীড়াবিদ মোস্তফা কামাল পাশা মওদুদ।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন, ২০১৮-এর ধারা ২ (১৫), ২ (৪) ও ৮-এর ক্ষমতাবলে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত অ্যাডহক কমিটিকে স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থার গঠনতন্ত্র মোতাবেক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়ম মেনে পরবর্তী নির্বাচনের আয়োজন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের ১৯ জুন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছিলো। বিভাগীয় কমিশনারকে আহবায়ক এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সিলেটের উপ পরিচালককে সদস্যসচিব করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটি অনুমোদন করা হয়েছিলো।
দিন বদলের গান গেয়ে সেই কমিটি দায়িত্ব নিয়েছিলো ঠিকই, কিন্তু সংস্থাকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছিলো। একইভাবে ব্যর্থ হয়েছিলো জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটিও।
বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সেই অ্যাডহক কমিটির অন্য সদস্যরা ছিলেন-বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী, সিলেট মহানগর জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান আলী, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক ক্রিকেটার এনামুল হক জুনিয়র, সিলেট জেলা দল ও প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগের সাবেক ক্রিকেটার ও কোচ রাহাত শামস, ক্রীড়া অনুরাগী ও সংগঠক মো. মোকাম্মেল হক এবং সাবেক ফুটবলার আবিবুল বারি আয়হান।
ক্রীড়া সাংবাদিক প্রতিনিধি হিসেবে কমিটিতে ছিলেন স্থানীয় দৈনিক সিলেটের ডাকের প্রধান বার্তা সম্পাদক এনামুল হক জুবের। এছাড়া ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন নাইম শেহজাদ।
এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার নতুন কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। অনুমোদিত কমিটিতে জেলা প্রশাসক, সিলেটকে সভাপতি এবং ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রীড়াবিদ রেজাউল করিম নাচনকে সদস্য-সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়ে।
এ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক, জেলা ক্রীড়া অফিসার এবং স্থানীয় ক্রীড়াবিদ মকসুদ আহমদ।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্রীড়াঙ্গনের অনেকেই বলছেন, নিয়মের চেনা সবুজ গালিচায় এখন অনিশ্চয়তার ধূলিঝড়। ক্রীড়াঙ্গনের সুনীল আকাশে জমেছে এক অদ্ভুত মেঘ-যার নাম ‘অ্যাডহক ছায়া’। যেখানে থাকার কথা ছিল সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার রোদ, সেখানে আজ জেঁকে বসেছে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার এক সাময়িক কুয়াশা। আর এটা চলছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই। নির্বাচনের গণতান্ত্রিক উৎসব দীর্ঘদিন থেকেই আড়ালে।
তবে তাদের আশা, নতুন অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমেই স্থায়িত্বের খরা কাটিয়ে আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে সিলেটের ক্রীড়া সংস্থাগুলো। নয়তো ‘সাময়িক’ ছায়ার নিচে ঢাকা পড়ে যাবে ক্রীড়াঙ্গনের ভবিষ্যত।






