এ বছর হচ্ছে না স্থানীয় সরকার নির্বাচন
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:৪২:৪৮ অপরাহ্ন
ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম ফের চালু
জামানত বাড়ছে, থাকছে যেসব প্রতীক
জালালাবাদ রিপোর্ট : অবশেষে নিশ্চিত হওয়া গেলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন এ বছর হচ্ছে না। খোদ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও এমন সম্ভাবনা দেখছেন না।
বুধবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করার কথা বলেছে। নির্বাচন কমিশন আগামী বছর থেকেই নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে তার মনে হচ্ছে।
সরকার সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। দাম বাড়ার কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে কি না- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে জ্বালানি মন্ত্রী তার বক্তব্য দিয়েছেন। আপনার প্রশ্নের উত্তর আমি ছোট করে বলতে চাই, নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি। আর নির্বাচনের দিনক্ষণ যেহেতু নির্বাচন কমিশন ঠিক করেনি। তারা প্রথমে একটা তারিখ নির্ধারণ করে বলেছে যে, ৬ জুনের মধ্যে তারা নির্বাচনগুলো শেষ করতে চায়। নির্বাচন যেহেতু আরও দেরি আছে, আমরা নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী মনে করছি, নির্বাচন হতে এখনো দেরি আছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে নাগাদ হতে পারে?-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারকে না জানিয়েই নির্বাচন কমিশন আগে তারিখ ঘোষণা করেছিল। তবে বিষয়টি তুলে ধরার পর কমিশন সচিব পর্যায়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করেছে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা আবার গণমাধ্যমকে জানিয়েছে যে, ৬ জুনের মধ্যে নির্বাচন শুরু ও শেষ করা হবে।
বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, এর আগেও বলেছি যে, তারা একটা টেন্টেটিভ হিসাব দিয়েছে, ৬ হাজার কোটি টাকা লাগবে এই পাঁচটি নির্বাচন শেষ করতে। আমরা মোটামুটি এই পরিমাণ অর্থ যাতে আমরা দিতে পারি, সেই ব্যবস্থা আমাদের রাখা আছে। এটা প্লাস-মাইনাস হতে পারে, তারা একটা সম্ভাব্য হিসাব আমাদের কাছে দিয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেখানে প্রায় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন শেষ করতে আমাদের খরচ হবে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, উপজেলা নির্বাচনে লাগবে ২ হাহার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এই দুইটা নির্বাচনেই বড় খরচ। আর বাকি পৌরসভা ৩৩০টা পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন মাত্র ১৩টি। এগুলোতে খরচের পরিমাণ অনেক কম বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন এই মাসের শেষে অথবা অক্টোবরের ফার্স্ট উইকে আরেকটা মিটিং করে ওনারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। আমাদের প্রতিনিধিরা সেখানে থাকবে।
জামানত বাড়ছে, থাকছে যেসব প্রতীক :
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থী হতে জামানতের টাকার পরিমাণ বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এটি ছাড়াও বেশ কিছু পরিবর্তন এনে ইউপি নির্বাচন বিধিমালা সংশোধন করেছে ইসি। সেখানে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদের জন্য প্রতীকও সংরক্ষণ করা হয়েছে। এবারের ইউপি নির্বাচন হবে নির্দলীয় প্রতীকে।
১৬ সেপ্টেম্বর সই করা এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে ইসি। এত দিন ইউপি নির্বাচনে লড়তে চেয়ারম্যান পদে জামানত ছিল ৫ হাজার এবং সদস্য পদে ১ হাজার টাকা। এখন সেটি বাড়িয়ে চেয়ারম্যান পদে ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য পদে ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।
একই সঙ্গে এবার জামানতের টাকা ফেরত পেতে প্রার্থীদের আগের চেয়ে বেশি ভোট পেতে হবে। কোনো প্রার্থী প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশ না পেলে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। আগে এক-অষ্টমাংশ ভোট পেলে জামানত ফেরত পেতেন।
এবারের ইউপি নির্বাচন হবে নির্দলীয় প্রতীকে। আগে ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হতো। ইতিমধ্যে এ-সংক্রান্ত আইন সংশোধন হওয়ায় বিধিমালা থেকে দলীয় প্রতীকগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালায় প্রার্থীদের জন্য প্রতীক সংরক্ষণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান পদের জন্য ২০টি, সাধারণ সদস্য পদে ১২টি ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ১০টি মার্কা বা প্রতীক চূড়ান্ত করা হয়েছে।
চেয়ারম্যান পদে এবার যেসব প্রতীক থাকবে সেগুলো হলো-কম্পিউটার, কলার ছড়ি, ঘণ্টা, ঘোড়া, চিংড়ি, জগ, টেবিল, টেবিলঘড়ি, টেলিফোন, দালান, দোতলা বাস, পাগড়ি, বেবিট্যাক্সি, ময়ূর, মোবাইল ফোন, মোটর সাইকেল, মোড়া, রেল ইঞ্জিন, সোফা ও হাঁস।
সংরক্ষিত আসনের সদস্য পদের জন্য সংরক্ষিত প্রতীকগুলো হলো-আলমারি, কলস, ড্রেসিং টেবিল, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মাইক, সেলাই মেশিন, সূর্যমুখী ফুল, হরিণ ও হেলিকপ্টার।
সাধারণ সদস্য পদের জন্য সংরক্ষিত প্রতীকগুলো হলো-উট, কাপ-পিরিচ, ঘুড়ি, জাহাজ, টর্চলাইট, টিউবওয়েল, ট্রাক্টর, তালা, ফুটবল, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব ও মোরগ।
ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম ফের চালু :
ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম ফের চালু করল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী কর্মকর্তাদের এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার স্থানান্তর সংক্রান্ত আবেদন গত ১০ সেপ্টেম্বর মধ্যে নিষ্পত্তিকরণের জন্য গত ২ সেপ্টেম্বর পত্রের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিল। মাঠ পর্যায়ের কার্যালয়ে ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম পুনরায় চালুকরণের জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন।
মাঠ পর্যায়ের কার্যালয়ে পূর্বের ন্যায় ভোটার স্থানান্তরের আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাইপূর্বক ইস্যুকরণ ও নিষ্পত্তি করতে হবে। এর আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ভোটার স্থানান্তর সীমিত করেছিল ইসি। তবে ভোট পিছিয়ে যাওয়ায় তা আবার চালু করল ইসি।





