‘নীল সুনামি’তে রিপাবলিকানে রক্তক্ষরণ!
প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ৩:২১:২৯ অপরাহ্ন
ট্রাম্প-ভ্যান্স-ক্রুজ দায় ঠেলাঠেলি
জালালাবাদ রিপোর্ট : লাল দুর্গের দেওয়ালে আছড়ে পড়ল ডেমোক্র্যাটদের নীল জলরাশি। সেই ‘নীল সুনামি’র ধাক্কায় এখন রক্তক্ষরণ চলছে রিপাবলিকান শিবিরে। তবে পরাজয়ের এই চরম মুহূর্তেও একতার বদলে প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে অন্তর্কোন্দল। ডোনাল্ড ট্রাম্প, জেডি ভ্যান্স নাকি টেড ক্রুজ-ব্যর্থতার মুকুট কার মাথায় উঠবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন দায় ঠেলাঠেলি।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে যে এভাবে মুখ থুবড়ে পড়তে হবে রিপাবলিকানদের, তা সত্যিই কি ভাবতে পেরেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প? মসনদে প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। বিতর্ক ছিল প্রথম পর্বেও। কিন্তু সব মিলিয়ে এতটা বেকায়দায় কখনওই পড়েননি তিনি। ৮০ বছর বয়সি রিপাবলিকান নেতা যে কেবল নিজেই বেকায়দায় পড়েছেন তা নয়, এমন ফলাফলে রিপাবলিকানদের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্নচিহ্ন উঠেছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের রায় ওয়াশিংটনে ক্ষমতার ভারসাম্যই বদলে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের অবশিষ্ট দুই বছর, রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ এবং তাঁর উত্তরসূরি কে হতে পারেন- এমন নানা বিষয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
জানা যাচ্ছে, ফলাফল পরিষ্কার হতেই প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের মধ্যে বিভাজনরেখা স্পষ্ট হয়ে গেছে। ট্রাম্প এবং জেডি ভ্যান্স, দু’জনই নির্বাচনের ফলাফলের নেপথ্যে ইরান যুদ্ধের প্রভাবকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তবে ট্রাম্প যেমন যুদ্ধের পক্ষেই সাফাই গেয়ে বলেছেন, সুযোগ পেলে তিনি আবারও একই কাজ করতেন, সেখানে ভ্যান্স এই সামরিক অভিযান শুরুর যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। ভ্যান্স রিপাবলিকানদের ভরাডুবির মূল কারণগুলো নিয়ে মুখ খুলেছেন। তাঁর মতে, ইরান যুদ্ধই কেবল নয়, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি কার্যকর করতে না পারাও ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি ইসরায়েলের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কের দিকেও আঙুল তুলেছেন তিনি। তবে তিনি যে সেই প্রশাসেনরই অংশ ছিলেন, তাও অস্বীকার করেননি ভ্যান্স। জানিয়েছেন, ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত দেশের ভেতরেই বুমেরাং হয়ে ফিরে এসেছে।
এদিকে টেক্সাসের সেনেটর টেড ক্রুজও পরাজয়ের কাটাছেঁড়া করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সমর্থকরা ভোট না দিয়ে বাড়িতেই থেকেছেন বলে রিপাবলিকানরা হেরেছে তা নয়। বরং আগে যাঁরা রিপাবলিকানদের সমর্থক ছিলেন, তাঁরা ডেমোক্র্যাট হয়ে গেছেন। ইরান যুদ্ধ, নিত্যদিনের খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি দুর্নীতি এবং ‘শুল্কযুদ্ধ’কেও তিনি হারের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
সব মিলিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যে এখন ক্ষোভের ‘বন্যা’ বইতে শুরু করেছে। প্রায় সকলেই পরাজয়ের দায় ঠেলে দিয়ে দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছেন বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
ইরানে হামলার সিদ্ধান্তই ব্যুমেরাং হয়েছে, মেনে নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনের ফল বেরুনোর পর বিখ্যাত মার্কিন সংবাদ সংস্থা দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তরফে ফোনে যোগাযোগ করা হয় ট্রাম্পের সঙ্গে। হারের কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমার মনে হয় অনেকগুলো কারণ ছিল। ইরান যুদ্ধ অবশ্যই একটা কারণ। তবে আমার মুখটা তো ব্যালটে ছিল না, তাই মানুষ ভোট দেয়নি।
বলে রাখা ভালো, যেহেতু কংগ্রেসের দখল নিয়ে ফেলেছে ডেমোক্র্যাটরা, তাই আইন প্রণয়ন ও তদন্তের ক্ষেত্রে আরও বেশি ক্ষমতা প্রয়োগ করবে তারাই। ফলে রিপাবলিকানদের ঘুরে দাঁড়ানো খুবই কঠিন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন তাদের কাছে দলের পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জটা খুব বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই চ্যালেঞ্জ সামলে উঠতে না পারলে আগামিদিনে যে ডেমোক্র্যাটদের চাপে ফেলাটা কঠিন হতে যাচ্ছে তা ভালোই বুঝছে ট্রাম্প শিবির। খাতায় কলমে এখনও বছর দুয়েক মসনদে থাকতে পারবেন ট্রাম্প। কিন্তু সেই সময়কাল যে তাঁকে কাটাতে হবে ‘রাজা’ সেজে, ‘রাজা’ হয়ে নয়।





