সুনামগঞ্জে খরায় ফেটে চৌচির হাওরের বীজতলা
প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ৬:০২:১৭ অপরাহ্ন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এবার স্বাভাবিক সময়ের প্রায় এক মাস আগেই পানি শুকিয়ে গেছে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে। টানা খরা ও বৃষ্টির অভাবে শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে বোরো ধানের বীজতলা। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন হাওরপারের কৃষকরা। বাড়তি খরচে সেচ দিয়ে বীজতলা প্রস্তুত করতে গিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁদের। সরেজমিনে দেখা যায়, ছায়ার হাওর, দেখার হাওর, শনি, মাটিয়ান, মহালিয়া ও গুরমার হাওরসহ বেশিরভাগ হাওরের বীজতলা শুকিয়ে খাঁ খাঁ করছে। যে মাঠে এখন ধানের চারা গজিয়ে ওঠার কথা, সেখানে চরছে গবাদিপশু।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, প্রতিবছর কার্তিক মাসের শেষ পর্যন্ত হাওরে পানি থাকে। বোরো মৌসুমের প্রস্তুতিও শুরু হয় নভেম্বরের শেষ দিকে। কিন্তু এবার অক্টোবরের শেষেই হাওরের পানি নেমে গেছে। বৃষ্টি না হওয়ায় মাটি দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ায় বেড়েছে সেচের খরচ। শুকনো জমি নরম করতে মেশিনের মাধ্যমে পানি দিতে প্রতি কেয়ারে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
শাল্লার কৃষক মাহবুবুর রহমান বলেন, বীজতলা ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। মেশিনে পানি দিয়ে মাটি নরম রাখার চেষ্টা করছি। এতে খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। তাঁর আশঙ্কা, ফেটে যাওয়া বীজতলার চারা দুর্বল হবে, কীটপতঙ্গের আক্রমণ বাড়বে এবং ধানের অঙ্কুরোদ্গম কম হবে। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ধানের উৎপাদন কম হলেও দাম বাড়ানো হলে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। অন্যথায় কৃষিকাজ ছেড়ে ঢাকায় গিয়ে রিকশা চালাতে হবে।
একই উপজেলার বড় কৃষক আব্দুস সাত্তার বলেন, বড় কৃষকরা মাঝারি, মাঝারি কৃষকরা ছোট এবং ছোট কৃষকরা দিনমজুরে পরিণত হচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে একসময় কৃষি হারিয়ে যাবে। কৃষিকে বাঁচাতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। পাকনার হাওরের কৃষক সিরাজুল হক ওলী বলেন, সময়মতো পানি পাচ্ছি না, আবার ধানের ন্যায্যমূল্যও পাচ্ছি না। আগে কার্তিক মাসে বৃষ্টি হতো, এখন প্রচণ্ড রোদে মাঠ শুকিয়ে যাচ্ছে। হাওরে সময়মতো পানি সরবরাহ ও নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে কৃষি বিভাগের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি বীজতলার জন্য ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করা প্রয়োজন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওমর ফারুক বলেন, এবার খরার প্রভাব পড়তে পারে বলে কৃষকদের আগেই সতর্ক করা হয়েছে। বীজতলায় পর্যাপ্ত পানি না পেলে ফসল উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ জন্য আশপাশে যেসব পানির উৎস রয়েছে, সেখান থেকে পানি নিয়ে বীজতলা প্রস্তুত করতে হবে। কৃষকরা ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের কথা বললেও এটি হুট করে স্থাপন করা সম্ভব নয়। কৃষকদের সচেতন করার পাশাপাশি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। বৃষ্টির জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করাও প্রয়োজন। উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জ জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫২১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ এবং ১০ হাজার ৪৬৮ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।





