আয়-ব্যয়ের মধ্যে ফাটল শুধুই বাড়ছে
প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ জুলাই ২০২৪, ১২:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন
দেশের সাধারণ মানুষের আয়ের সাথে ব্যয়ের বৈষম্য ক্রমশঃ বাড়ছে। অপরদিকে একশ্রেণীর ক্ষমতাসীন ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের ব্যয়ের চেয়ে আয় শুধুই বেড়ে চলেছে। সম্প্রতি পত্রিকান্তরে প্রকাশিত জনৈক রিকশাচালকের বক্তব্যে আয়ের তুলনায় ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট দুঃখ দুর্দশার বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে। সিলেটের ঐ রিকশা চালকের নাম আজিজ। তিনি বলেন, ‘ক’দিন ধরে মাছ খাই না। কিনমু ক্যামনে? দাম বেশি। আয় রোজগার কমলেও সব জিনিসের দাম বাড়ছে। যে কারণে পোলাপানরে ভালো খাওয়াতে পারি না।’
রিকশা চালক আজিজের এই বক্তব্যে কয়েকটি মর্মান্তিক সত্য প্রকাশিত হয়েছে। তার এই বক্তব্য যেনো গোটা দেশের কোটি কোটি সাধারণ সীমিত আয়ের মানুষের। তার এই বক্তব্যে প্রথমতঃ যে বিষয়টি ফুটে ওঠেছে তা হচ্ছে, খেয়ে বাঁচার জন্য প্রাণপণ লড়াই করতে হচ্ছে তার মতো কোটি কোটি মানুষকে। দিন দিন খাদ্যসহ প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও তাদের আয় রোজগার বাড়ছে না। আর বাড়বে কীভাবে? দেশের যে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী রিকশা চড়েন, সেই নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের আয় তো বাড়েনি। আর যাদের বেড়েছে তারা উচ্চবিত্ত শ্রেণীর মানুষের আয় বাড়লেও তাদের সংখ্যা নগণ্য। তাই যারা আগে রিকশা চড়তেন তারা অনেকে লেগুনা, বাস জাতীয় যানবাহন চড়েন। অনেকে হেঁটেই স্বল্প দূরত্বে চলাচল করেন। এতে রিকশা চালকদের চাহিদা ও আয় অনেকটাই কমেছে। এছাড়া আগে রিকশার যাত্রীরা বিশেষভাবে সিলেট অঞ্চলের মতো বিত্তবান জেলার অনেক যাত্রী হাত খুলে রিকশা চালকদের ভাড়া দিতেন, তেমন দরকষাকষি ছাড়াই। কিন্তু সেই পরিস্থিতি বদলে গেছে। এছাড়া রিকশাচালকেরা আগে অর্থাৎ বছর দু’য়েক আগেও মালিকের পাওনা দিয়ে দৈনিক ৫০০ টাকা রোজগার করলেও একজন রিকশা চালকের কোনমতে চলে যেতো। কিন্তু এখন এর চেয়ে বেশী আয় করেও তার অভাব থেকে যাচ্ছে। বর্ধিত ঘরভাড়া, বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল দিয়ে অগ্নিমূল্যে খাদ্যপণ্য কিনতে গিয়ে তাকে কপাল চাপড়াতে হচ্ছে। হাহাকার করতে হচ্ছে রিকশা চালক আজিজের মতো। অসহায়ভাবে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে। আর যে কোন সমস্যা ও সংকটে এই মানুষগুলোই ভিকটিম হয়ে থাকেন সবসময়। খাদ্যপণ্যের কথা বলতে গেলে গত দেড়/দুই বছরে গরু খাসি ও মুরগীর দাম যে হারে বেড়েছে, তা এখন সাধারণ সীমিত আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে। অনেক দরিদ্র মানুষ কুরবানীর ঈদসহ দু’একটি পর্ব অনুষ্ঠান ছাড়া মাংস খেতে পারছেন না। এখন ডিম, ডাল ও আলুসহ অন্যান্য সবজির দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় এগুলোও খেতে পাচ্ছেন না তারা।
গতকাল দেশের একটি শীর্ষ দৈনিকে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দেশের দরিদ্র ও সীমিত আয়ের মানুষের দুর্ভোগের কিছু বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গত দুই বছর ধরে সাধারণ মানুষ উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে আছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার কারণে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষ অস্বাভাবিক চাপে পড়েছে। এক বছর ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশী আছে। গত কয়েকদিনের সহিংসতায় জিনিসপত্রের দাম আরো বেড়েছে।
এ অবস্থায় চলমান অনিশ্চয়তা উচ্চ মূল্যস্ফীতি তথা অর্থনীতিতে নতুন করে সংকট তৈরী করেছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদেরা। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে বিপাকে পড়েছেন গরীব মানুষ। কথা হচ্ছে, দরিদ্র ও সীমিত আয়ের মানুষের এই আর্থিক দুর্ভোগের কথা প্রায় প্রতিদিন লেখা হচ্ছে। প্রচারিত ও প্রকাশিত হচ্ছে তাদের কষ্টের কাহিনী। বিষয়টি ক্ষমতাসীন নীতি নির্ধারকদেরও অজানা নয়। কিন্তু এই সংকট বা সমস্যা সমাধানের কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না সংশ্লিষ্টদের। আর এটাই সবচেয়ে বড় দুঃখ ও হতাশার বিষয়।




