শিক্ষা সংস্কারে করণীয়
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:৩০:৪০ অপরাহ্ন

গতকাল একটি জাতীয় মিডিয়ায় ‘শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে এ মুহূর্তে করণীয়’ শিরোনামে একটি গুরুত্বপূর্ণ লেখা প্রকাশিত হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক উপচার্য ও বাংলাদেশ বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক সদস্য ড. মো. আবু তাহেরের লেখা এই নিবন্ধে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার সংক্রান্ত বেশ কিছু দিক নির্দেশনামূলক প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তার প্রস্তাবে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক কারিগরি ও মাদরাসা এবং উচ্চ শিক্ষার সমন্বয়ে গঠিত শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন, টেকসই ও কর্মসংস্থানমুখী করার নিমিত্তে আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিক্ষা প্রশাসক ও শিক্ষা গবেষকদের সমন্বয়ে একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠন। এছাড়া জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের উদ্দেশ্যে জাতীয় গবেষণা কাউন্সিল গঠন অতীব জরুরি। যে কোন স্তরের মানসম্পন্ন পঠন পাঠনের জন্য দক্ষ ও যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ। বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক নির্বাচনের ক্ষেত্রে পয়েন্টের সাথে ¯œাতক-¯œাতকোত্তর পরীক্ষার ফলাফল গবেষণা প্রবন্ধ, কনফারেন্স পেপার, পিএইচডি ইত্যাদি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অর্থাৎ শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে মাল্টিপল ক্লাইন্ড পিয়ার রিভিউ পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষাখাতে বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।
কর্মমুখী ও চাহিদাভিত্তিক শিখন কার্যক্রমের জন্য শিল্পের সঙ্গে শিক্ষাঙ্গনগুলোর সংযোগ স্থাপনের নিমিত্তে সরকারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে ও কর্মবাজারে প্রবেশের জন্য যে ধরণের দক্ষতা প্রয়োজন সে অনুযায়ী প্রতিটি শিক্ষায়তনে যুগোপযোগী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। বর্তমানে কারিগরি স্কুল, টেকনিক্যাল কলেজ, শিল্প বিপ্লবের উপযোগী দক্ষতাভিত্তিক মানব উন্নয়ন জরুরি। তাই সেদিকে নজর দিতে হবে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে।
বলা বাহুল্য, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে ৪ কোটিরও অধিক শিক্ষার্থী ও প্রায় ১৩ লাখ শিক্ষকের সমন্বয়ে গঠিত শিক্ষা ব্যবস্থাটির সংস্কার অতীব জরুরি। বিগত দেড় দশকে এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে পরিকল্পিত ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছে। অবাস্তব শিক্ষা পদ্ধতি গ্রহণসহ নানা ধরণের অদ্ভুত পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থাকে যেমন তামাশার বিষয়ে পরিণত করা হয়, তেমনি শিক্ষার্থীদের পরিণত করা হয় এ ধরণের পদ্ধতি যাচাইয়ের গিনিপিগ হিসেবে। ফলে দেশের প্রায় সকল শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, দেশের মানুষকে মূর্খতা ও অজ্ঞতার অন্ধকারে রেখে স্বৈরশাসন নির্বিঘœ ও দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে নিষ্ক্রিয় ও অকার্যকর করার উদ্যোগ নেয় শেখ হাসিনা সরকার। বর্তমানে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ফলে সকল ক্ষেত্রে সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে শিক্ষাখাতকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। শিক্ষা সংস্কারের জন্য উপযুক্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোক নিয়োগ করা হচ্ছে। আশা করা যায়, শিক্ষাখাত অতীতের সকল জঞ্জাল ও প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে একটি শক্তিশালী কাঠামো নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। শিক্ষাক্ষেত্র থেকে দূর হবে বিগত দেড় দশকের সকল অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপকর্ম।




