নিয়ন্ত্রণ করতে হবে মূল্যবৃদ্ধি
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ অক্টোবর ২০২৪, ১২:৩৪:৪২ অপরাহ্ন

অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, মূল্যস্ফীতি জিনিসটা অনেক জটিল ও এটি হঠাৎ করে বেড়ে যায়নি। মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার পেছনে অনেক কারণ আছে। তবে আনুষ্ঠানিক হিসেবে মূল্যস্ফীতি ১ শতাংশ কমেছে। আপনারা স্বস্তি পাবেন, অধৈর্য হবেন না। গত বুধবার ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। বাজারে জিনিসপত্রের অনেক দাম, এ বিষয়ে তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আমরা কাজ করছি। একটু সময় লাগবে। ইতোমধ্যে আমরা কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগে ভোজ্য তেলের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক কমিয়েছি। আজ চিনির ওপর শুল্ক কমানো হলো। বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের অভাব হবে না জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, আজ মসুর ডাল কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়া হলো। এছাড়া এলএনজি আমদানি ও সার কেনার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। স্বস্তি পাবেন আপনারা।
মূল্যস্ফীতির পেছনের কারণ তুলে ধরে সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এখানে বাজারের একটি বিষয় আছে। বাজার তদারকি ব্যবস্থার বিষয়। আছে পণ্য উৎপাদন ও বিপণনের বিষয়। অনেক জায়গায় পুরোনো লোক চলে গেছে। চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, চাঁদাবাজি কমেনি, তা নয়, চাঁদাবাজি কমেছে। কিন্তু বিভিন্ন ক্ষেত্রে হাতবদল হওয়াটা এ মুহূর্তে যে কমেছে, তা বলা যাচ্ছে না।
অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টার উপরোক্ত বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একথা অনস্বীকার্য যে, গত দেড় দশকে এদেশের সাধারণ সীমিত আয়ের মানুষ যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশী ভুক্তভোগী ছিলেন, তা হচ্ছে, নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য। খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের ক্রমবর্ধমান অস্বাভাবিক মূল্যের কারণে তাদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বাজার তদারকি ছিলো না বললেই চলে। অসৎ ব্যবসায়ীদের বাজার কারসাজি বন্ধের জন্য সরকারের প্রতি উপর্যুপরি দাবি জানালেও সরকার বিশেষভাবে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে কর্ণপাত করেনি। বরং কোন কোন মন্ত্রী বলেছেন, সিন্ডিকেটে হাত দেয়া যাবে না, এতে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে যাবে। যখন দ্রব্যমূল্যের যাঁতাকলে সাধারণ মানুষের জীবন দুঃসহ, তখন তিনি বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে বাজার কারসাজি বন্ধে তথা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কোন উদ্যোগ নেননি। বিষয়টি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হলেও এ ব্যাপারে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি কখনো। কারণ অধিকাংশ নেতামন্ত্রী এমপি কোন না কোন সেবা ও পণ্যের ব্যবসার সাথে জড়িত কিংবা তাদের স্বার্থের ভাগিদার। এভাবে পণ্যমূল্য শুধুই বেড়েছে, বেড়েছে মূল্যস্ফীতি।
তবে কথা হচ্ছে, এখন তো আর স্বৈরাচারী দুর্নীতিবাজ সরকার তথা তাদের নেতামন্ত্রীরা নেই। এখনো নিত্যপণ্যের দাম উর্ধমুখী কেনো? এ ধরনের প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন, অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী, যা উপরে বর্ণিত হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, শিগগিরই অবস্থার পরিবর্তন হবে মূল্যস্ফীতি কমবে। এদেশের সাধারণ মানুষ বিগত বছরগুলোতে অন্যান্য দিক ছাড়াও অনেক আর্থিক কষ্ট ও দুর্ভোগের শিকার হয়েছে। পণ্যমূল্য বিশেষভাবে খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ভেঙ্গে ফেলতে হবে সিন্ডিকেটিং অর্থাৎ বাজার কারসাজি দৃঢ় হস্তে। নইলে এতো জীবন ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই নতুন স্বাধীনতা ও স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি অর্থহীন বলে প্রতীয়মান হবে।
এখানে অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে মার্কেট মনিটরিংয়ে বা বাজার তদারকির কথা বলেছেন। একথা অনস্বীকার্য যে, বাজার তদারকির অভাবে গত দেড় দশকে দ্রব্যমূল্য এতো মারাত্মক হারে বেড়েছে। উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা নিজেদের খেয়ালখুশি মতো পণ্যের দাম নির্ধারণ করেছে, বাড়িয়েছে। এর লাগাম অবশ্যই টেনে ধরতে হবে, অন্যথায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না।
অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, ধৈর্য ধারণের কথা বলেছেন। এদেশের মানুষ দেড় দশক নানা অন্যায় অবিচার ও নিপীড়ন নির্যাতন সত্বেও সুদিনের প্রত্যাশায় ধৈর্য ধারণ করবে। তবে এই সময় যেনো অতিশয় দীর্ঘ ও অসহনীয় না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে।




