সৌরবিদ্যুতের চমক
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ অক্টোবর ২০২৪, ১২:৩০:১৭ অপরাহ্ন

গতকাল মিডিয়ায় ‘মাদরাসার বিদ্যুৎ যাবে জাতীয় গ্রীডে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের সুজানগর আইডিয়াল আলিম মাদরাসা বিদ্যুৎ সমস্যা নিরসনে এক অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। মাদরাসায় সোলার প্যানেল স্থাপন করে সৌর শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। উৎপাদিত এই বিদ্যুৎ মাদরাসার চাহিদা পূরণ করে যুক্ত হবে জাতীয় গ্রীডে।
এ প্রসঙ্গে সুজানগর মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য ও এই সৌর প্লান্টের মূল তত্ত্বাবধায়ক মোঃ আব্দুল কুদ্দুস বলেন, প্রতিদিন ১৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ এখান থেকে উৎপাদন হবে। এ বিদ্যুৎ পরিবেশ বান্ধব। কার্বন উৎপাদন কমায়। মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বড়লেখা জোনাল অফিসের ডিজিএম ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সোহেল রানা চৌধুরী বলেন, সৌর থেকে গ্রাহক বিদ্যুৎ উৎপাদন করে নিজের চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় গ্রীডে বিক্রি করতে পারেন। এটা করতে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় থেকে উদ্বুদ্ধ করা হয়। যাতে জাতীয় গ্রীডে বিদ্যুতের চাপ কম থাকে। যারা এ রকম করতে চান আমরা তাদেরকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য টাকা দেবো। এটা দেশের বিভিন্ন জায়গায় আছে। বিশেষ করে বড় বড় ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে।
বলা বাহুল্য, বাংলাদেশ একটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় বা গ্রীষ্মপ্রধান দেশ। এখানে বছরের বেশীর ভাগ সময় রৌদ্র থাকে। তাই এখানে সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ অর্থাৎ সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। দেখা গেছে, জার্মানীর যে কোন জায়গায় সূর্য থেকে আসা সর্বোচ্চ সৌরশক্তিসহ অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন করছে। বাংলাদেশ তার চেয়ে অনেক সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও কেনো এর চেয়ে অনেক কম। বিদ্যুৎ সৌরশক্তিসহ অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন করতে পারবে না কেন? এদেশে বায়ু থেকে ১ হাজার এবং বর্জ্য থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে মনোযোগ দিলে বাংলাদেশকে বিদ্যুতের জন্য পরনির্ভরশীলতা দূর হয়ে যাবে।
লক্ষণীয় যে, সৌরবিদ্যুতের সুবিধা হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কখনো ঘাটতি হবে না। কারণ সৌরশক্তি অপরিসীম। প্যানেল স্থাপনের পর বিদ্যুতের জন্য কোন বিল দিতে হবে না। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কখনো বিচ্ছিন্ন হবে না। সৌরপ্যানেল রক্ষণাবেক্ষণও অনেক সহজ। পরিবেশ দূষিত করে না, প্যানেলের স্থায়ীত্ব বেশি। তাই বহু বছর ব্যবহার করা যায়। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষুদ্র একটি প্রয়াস হচ্ছে সুজানগর আইডিয়াল মাদরাসার। ক্ষুদ্র হলেও এই উদ্যোগ পথ দেখাতে পারে অন্যান্য বড় বড় প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের। দেশের বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে এ ধরনের উদ্যোগ রাখতে পারে যুগান্তকারী ভূমিকা। আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের নবায়নযোগ্য পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনে সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি। আশা করছি বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সার্বিক সহায়তা প্রদান করবে।




