ভুলপথে যাত্রা!
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ অক্টোবর ২০২৪, ১২:৩০:৪২ অপরাহ্ন

অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, মারাত্মক ভুল ও বিপজ্জনক পথে হাঁটছে আওয়ামী লীগ। ঠিক তাদের গডফাদার মোদীর ভারতের মতোই। বলা বাহুল্য, মোদী সরকারের প্রতিটি বৈদেশিক নীতিই ইতোমধ্যে আত্মঘাতী ও ধ্বংসাত্মক হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। সর্বশেষ কানাডার সাথে যে সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে, তা রীতিমতো ভয়ংকর। কানাডা ও তার মিত্র যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক এখন তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে, শিখ নেতা হত্যাকান্ডের জের হিসেবে। একইভাবে বাংলাদেশেও আওয়ামীপন্থী বিচারপতি ও আইনজীবীদের সাম্প্রতিক নিন্দনীয় ও জঘন্য আচরণকে ঘিরে এদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন অস্থির, উত্তেজনাপূর্ণ। বিগত দেড় দশকে এদেশের জনগণের সবচেয়ে নির্ভরের জায়গা এমনকি শেষ ভরসাস্থল বিচারালয় বিশেষভাবে হাইকোর্ট সুপ্রীম কোর্টকে দলীয়করণের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ বিশ্বের ইতিহাসে যে নিন্দনীয় ও ঘৃণ্য নজির স্থাপন করে, তার জের এখনো নিঃশ্বেষ হয়নি। তাদের অনেকে এখনো এই বিচারের পবিত্র অঙ্গনে অনভিপ্রেত কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি খুনী স্বৈরাচারের পক্ষাবলম্বন করে প্রকাশ্যে শ্লোগান দিচ্ছে। খুনী হাসিনার নজিরবিহীন খুন নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হাজার হাজার ভিকটিম যখন শরীরে বুলেট ও দগদগে ক্ষত নিয়ে হাসপাতাল ক্লিনিক ও ও বাড়িঘরে কাতরাচ্ছে, তখন স্বৈরাচারের পক্ষে এমনকি স্বৈরাচারকে পুনরায় প্রতিষ্ঠার আহবান ও প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে শ্লোগান ও মিছিল এদেশের মানুষের আত্মত্যাগের প্রতি চরম অবজ্ঞা ও পরিহাসের শামিল। এতো জঘন্য আচরণ ও মানবতা বিরোধী অপরাধ এবং নিষ্ঠুর গণহত্যা সংঘটন সত্বেও আওয়ামী লীগের নেতা নেত্রী ও সমর্থকদের মাঝে কোন অনুশোচনা বা অপরাধবোধের কোন আলামত দেখা যাচ্ছে না। এটা এদেশের শান্তিপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে রীতিমতো বিস্ময়কর ও অশনি সংকেত স্বরূপ। সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেছেন, দলবাজ ও দুর্নীতিবাজ বিচারপতিদের স্থান আদালতে হবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম বলেছেন, আগে বিচার, তারপর সমঝোতা, খুনীদের ক্ষমা নাই।
অনেকের মতে, এ মুহূর্তে পতিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ যদি এদেশের জনগণের সহানুভূতি ফিরে পেতে তাদের অতীত অপরাধকর্মের জন্য অনুতপ্ত হতো ও ক্ষমা চাইতো তবে এক সময় হয়তো এদেশের মানুষ তাদের ক্ষমা করে দিতো। নিদেনপক্ষে তারা যদি বর্তমান উচ্ছৃংখলতা ও চক্রান্তের পথ পরিহার করে নীরব থাকতো, তবুও তাদের জন্য কল্যাণকর হতো, আগামীতে সুস্থ রাজনীতিতে ফিরে আসার সম্ভাবনা সৃষ্টি হতো। কিন্তু তারা এখন উল্টো পথে হাঁটছে। তাদের গডফাদার মোদীর ভারতের ভ্রান্ত নীতি অনুসরণ করে এদেশের জনগণের বিরুদ্ধে একের পর এক চক্রান্ত করে চলেছে, যার পরিণতি কোনভাবেই মঙ্গলজনক হওয়ার কথা নয়। মোদী সরকার খুনী পলাতক হাসিনাকে শুধু আশ্রয় দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, তাকে বাংলাদেশ বিরোধী সব ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা ও প্রচারণা চালানোর সুযোগ করে দিয়েছে ট্রাভেল ডকুমেন্ট ইস্যুর মাধ্যমে। বিশ্লেষকদের মতে, এসবই আওয়ামী লীগ ও তাদের পৃষ্ঠপোষক ভারতের জন্য অচিরেই বুমেরাং হয়ে দেখা দেবে। বিশেষভাবে বাংলাদেশের সুস্থ রাজনৈতিক ধারায় আওয়ামী লীগের ফিরে আসাকে জটিল এমনকি অসম্ভব করে তুলতে পারে, আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে ঠেলে দিতে পারে ঘোষিত বা অঘোষিত নিষেধাজ্ঞার দিকে।




