যুদ্ধ বন্ধের উপায় খুঁজছে ইসরাইল
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ অক্টোবর ২০২৪, ১২:৩৫:৫৪ অপরাহ্ন

মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়া এবং বিশ্বের সবচেয়ে নিষ্ঠুর ও অমানবিক অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল এখন প্রতিরোধ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফ্রন্টে মার খেয়ে দিশেহারা। প্রতিরোধ যোদ্ধাদের অনেক শীর্ষ নেতা ও বিপুল সংখ্যক নিরস্ত্র বেসামরিক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করলেও যুদ্ধ জয়ের ধারে কাছেও নেই ইসরাইল। প্রায় প্রতিদিনই সৈন্য ও ট্যাংক হারাচ্ছে হানাদার ইসরাইলী সামরিক বাহিনী। প্রতিরোধ যোদ্ধাদের চারটি গোষ্ঠীর উপর্যুপরি হামলায় গোটা ইসরাইল আতংকের ভূখন্ডে পরিণত হয়েছে। আর এভাবে চলতে থাকলে দেশটি ব্যবসা বাণিজ্য ও উৎপাদনহীন একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার আশংকা রয়েছে, এমন অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
বলা বাহুল্য, ইসরাইলের প্রতিটি এলাকা এখন প্রতিনিয়ত ক্ষত বিক্ষত হচ্ছে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের মিসাইল ও ড্রোন হামলায়। স্থলযুদ্ধের প্রতিটি পর্যায়ে পরাজয়ের গ্লানি ও হতাহত সৈন্যদের লাশ ও ক্ষতবিক্ষত দেহ নিয়ে ফিরতে হচ্ছে আইডিএফ অর্থাৎ ইসরাইলী ডিফেন্স ফোর্সকে। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে ইসরাইল এখন যুদ্ধবিরতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র, মিশর ও কাতারের দুয়ারে ধর্ণা দিচ্ছে। গতকাল ইসরাইলী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির গোয়েন্দা প্রধান গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় যোগ দেবেন। অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির চুক্তি হলে লড়াই বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে হামাস।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে গাজা যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় গতি আসার একটা ইংগিত পাওয়া যাচ্ছে, ইসরাইল ও হামাসের এমন অবস্থানে। ইতোপূর্বে গাজায় যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে বহুবার আলোচনা বৈঠক হয়েছে। কিন্তু ইসরাইলের একগুয়েমী ও ঔদ্ধত্যের কারণে বার বার সেসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ও নেতামন্ত্রীরা সকল আন্তর্জাতিক আইন রীতিনীতি ও মানবাধিকারের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে গাজার বেসামরিক জনগণকে অকাতরে হত্যা করে চলেছে। এ অবস্থায় গণহত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক আদালতগুলো ইসরাইলকে অভিযুক্ত করেছে। যুদ্ধবাজ নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গণহত্যার দায়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করেছে। কিন্তু কোন কিছুই ইসরাইলী নিষ্ঠুর শাসকগোষ্ঠীকে ফিলিস্তিনী নিধন তথা গণহত্যা থেকে নিবৃত্ত করতে পারেনি।
তাদের নির্বিচার বোমা ও গোলাবর্ষণে এ পর্যন্ত প্রায় পৌণে এক লাখ নিরস্ত্র ফিলিস্তিনী নিহত হয়েছে। অনেকের মতে, এ সংখ্যা লক্ষাধিক। আহতের সংখ্যা কয়েক লাখ। গাজাকে এখন বাস্তবে কোন জনপদ বলা যাবে না, ধ্বংসস্তূপই বলা সঠিক। জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মতে, এখন থেকে প্রতিদিনই যদি গাজায় উন্নয়ন কাজ করা হয়, তবুও গাজার ক্ষত সারাতে এক দশক লেগে যাবে।
অপরদিকে ইসরাইল ছিলো অর্থনৈতিক দিক দিয়ে একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ রাষ্ট্র। কিন্তু গাজা যুদ্ধ এই সমৃদ্ধ রাষ্ট্রের অর্থনীতিকে তছনছ করে দিয়েছে। যুদ্ধে দেশটির কাঠামোগত যতো ক্ষতি হয়েছে তার চেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে ব্যবসা বাণিজ্য ও ভাবমূর্তির। হামাস হিজবুল্লাহসহ প্রতিরোধ যোদ্ধাদের অবিরাম ক্ষেপনাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ফলে ইসরাইলের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত। এছাড়া ইতোমধ্যে কয়েক লাখ ইহুদী বসতি স্থাপনকারী অবৈধ বসতি ছেড়ে পালিয়েছে। অনেক ইহুদী ইসরাইল ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবাজ নিষ্ঠুর ও নৃশংস শাসক নেতানিয়াহু বলা যায় দিশেহারা। বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় বইছে তার সরকার ও তার দেশটির বিরুদ্ধে। ফলে তিনি শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধের তথা একটি যুদ্ধবিরতির চুক্তির চেষ্টা করছেন। অবশ্য যুদ্ধ পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে থাকলে নেতানিয়াহু বা তার সরকার যে যুদ্ধবিরতির কথা মুখেও আনতেন না, এটা নিশ্চিত। যা-ই হোক, গাজায় যুদ্ধ বন্ধের দাবি শুধু গাজাবাসী বা ফিলিস্তিনীদের নয়, গোটা বিশ্বের সকল বিবেকবান সচেতন মানুষের। বিশ্ববাসীর এই প্রত্যাশা পূরণ হোক, এ প্রার্থনা আমাদেরও।




