উদীয়মান চতুর্থ পরাশক্তি ইরান!
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ মে ২০২৬, ১২:৫৭:৫২ অপরাহ্ন
ইরানের সাথে অন্যায় ও অন্যায্য যুদ্ধে বিব্রত, বিপর্যস্ত ও নাস্তানাবুদ হয়ে শেষ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। হতে পারে এটা যুক্তরাষ্ট্রের একটি কূটকৌশল, তবে অধিকাংশ রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে সার্বিক পরিস্থিতি প্রতিকূলে চলে যাওয়ার দেশটি এখন যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ৬ মে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা করেন। ২৮ ফেব্রুয়ারী শুরু হওয়া এই যৌথ অভিযানের আক্রমণাত্মক পর্যায় সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন এবং যুক্তরাষ্ট্র এখন কূটনৈতিক সমঝোতা ও শাস্তির পথে এগোতে চায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, ইসরাইলকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানে কোন লক্ষ্যই অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। প্রথমে তারা চেষ্টা করেছিলো ইরানের সরকার পরিবর্তনের। ক্ষমতার শীর্ষ ব্যক্তিদের হত্যা করে এই লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। পরে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নষ্ট করার চেষ্টা করে আগ্রাসী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এতে তারা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়। ইরানের যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা এখনো সম্পূর্ণ অটুট। এক পর্যায়ে তারা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস ও ইউরেনিয়াম উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। এতেও তারা ব্যর্থ হয়। এদিকে যুদ্ধে বেসামরিক জনগণের বিপুল প্রাণহানি হলে গোটা বিশ্বের মানুষ এই অন্যায় যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়েছে। খোদ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের জনগণের মাঝে তাদের সরকারের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠতে দেখা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় কোটি মানুষ রাস্তায় নেমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ইসরাইলের অভ্যন্তরেও এ পর্যন্ত এ ধরনের যুদ্ধবিরোধী বহু বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত এপ্রিলে ‘উদীয়মান চতুর্থ পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভুত হচ্ছে ইরান’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় মিডিয়া নিউইয়র্ক টাইমস। এতে বলা হয়, বিশ্ব রাজনীতির চালিকাশক্তি মূলত যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীন এমন ধারণা ছিলো এতোদিন। কিন্তু বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ববাসীর সামনে এক সমীকরণ নিয়ে এসেছে। অর্থনীতি বা প্রথাগত সামরিক শক্তিতে পিছিয়ে থাকলেও ভৌগলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে ‘চতুর্থ বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে ইরান।
এতে আরো বলা হয়, ইরানকে বিশ্লেষণ করতে প্রথমেই চলে আসে হরমুজ প্রণালির নাম। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় এই প্রণালির মধ্য দিয়ে। ইরান ইতোমধ্যে এই প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে সংঘাতের জেরে ইরান এই রুটে সামরিক অবরোধ সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আপ্রাণ চেষ্টা করেও ইরানের এই অবরোধ ভাঙ্গতে পারেনি। এভাবে হরমুজ প্রণালির ওপর আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণই ইরানকে বিশ্বে চতুর্থ পরাশক্তি হয়ে ওঠতে সবচেয়ে বড়ো ভূমিকা রেখেছে। আর এটাই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে বাধ্য করেছে নতজানু হতে, হার স্বীকার করতে ইরানের কাছে।




