প্রকৃত উন্নয়নধর্মী প্রকল্প বটে
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ মে ২০২৬, ১২:৩৯:৪৭ অপরাহ্ন
সম্প্রতি মিডিয়ায় ‘ফসল রক্ষায় সরকারের বড় উদ্যোগ’ শীর্ষক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আগাম বন্যা থেকে কৃষকের ধান রক্ষায় হাওর অঞ্চলের ১৩টি নদী খনন, খাল পুনঃখনন এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। এর মাধ্যমে ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৩০ হেক্টর কৃষিজমি আগাম বন্যার হাত থেকে সুরক্ষা দেয়া সম্ভব হবে। এতে আরো বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় সুরমা, বাউলাই, ধনু, ঘোড়উত্রা, আপার মেঘনা, পুরাতন সুরমা, দাড়াইন, চামতি, সোমেশ্বরী, কাউনাই, বাউলাই-পাটনাই গাং ও আবুয়া নদী খনন করা হবে। এসব নদীর মধ্যে সুনামগঞ্জের ৮টি এবং কিশোরগঞ্জের ৫ টি নদী রয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, বর্তমান পর্যায়ে খননের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৩টি রিভার সিস্টেমও খনন করা হবে। এগুলো হচ্ছে সুরমা-বাউলাই, আপার মেঘনা রিভার সিস্টেম, পুরাতন সুরমা রিভার সিস্টেম ও আবুয়া-পাটনাই-কাউনাই রিভার সিস্টেম। এসব সিস্টেমের আওতায় ১৩টি নদী ড্রেজিং, খাল পুনঃখনন এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে ১ লাখ ৫৫ হাজার ২৩০ হেক্টর কৃষিজমি সুরক্ষার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
লক্ষণীয় যে, সিলেট অঞ্চলের সুনামগঞ্জ জেলার উত্তরে ভারতের মেঘালয় ও আসাম রাজ্য। এ অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর বৃষ্টি হয়। এই বৃষ্টির পানি ভারতের বিভিন্ন নদী দিয়ে সুনামগঞ্জে প্রবেশ করে এবং সুরমা ও কুশিয়ারা নদী হয়ে মেঘনায় পতিত হয়। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীসহ অন্যান্য নদীর তলদেশ পলি ও বালু জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা কমে গেছে। এতে ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা আকস্মিক বন্যার পানি নিষ্কাশন হতে অতিরিক্ত সময় লাগে। এতে পাউবো’র নির্মিত বোরো ফসল রক্ষাকারী ডুবন্ত বাঁধ ভেঙ্গে হাওরের ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। এছাড়া প্রতি বছর হাওরের পানি নিষ্কাশনে বিলম্বের দরুন বোরো ধানের বীজতলা প্রস্তুত ও চারা রোপনের সময়ও কমে আসে। এ অবস্থায় হাওর অঞ্চলে নদ-নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নিষ্কাশন ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ অন্তর্বর্তী খালগুলো খনন করা প্রয়োজন। পরিকল্পনা কমিশনের জনৈক উর্ধতন কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পের সার্বিক বিষয় নিয়ে সভা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জিতে পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয়। এই পাহাড়ি এলাকার বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির পানি খুব দ্রুত ধেয়ে আসে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকায়। ফলে প্রতি বছর আগাম বন্যায় সুনামগঞ্জ জেলার হাওরের বোরো ধান পানিতে তলিয়ে নষ্ট হওয়ার আশংকা থাকে। হাওর এলাকার নদীগুলো পলি জমে ভরাট হয়ে নদীর পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। ফলে আগাম বন্যার পানি হাওর অঞ্চল থেকে ভাটির দিকে নিষ্কাশিত হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। প্রস্তাবিত এ প্রকল্পের মাধ্যমে হাওরের নদীগুলোর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে প্রায় ১৫ লাখ টন বোরো ধান আগাম বন্যার ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
বলা বাহুল্য, ফসল রক্ষায় সরকারের উপরোক্ত উদ্যোগ একটি যুগান্তকারী ঘটনা বা পদক্ষেপ, যদি তা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদিত হয়। বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে অগণিত মেগা প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও হাওরের তথা দেশের চালিকাশক্তি কৃষকের ফসল রক্ষার কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়নি। যেসব প্রকল্পে লুটপাটের সুযোগ বেশী সেসব প্রকল্পেই শুধু অর্থ বরাদ্দ করেছে লুটেরা শেখ হাসিনার সরকার। ফলে দেশের অর্থনীতির কোন বাস্তব উন্নয়ন হয়নি, দূর হয়নি কৃষিসহ অন্যান্য খাতের সমস্যা ও সংকট। হাওর উন্নয়নের বর্তমান বিএনপি সরকারের বর্ণিত উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে যে একটি বড়ো পরিবর্তন আসবে এতে কোন সন্দেহ নেই। আমরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছি।




