ক্রয়ক্ষমতা কমছে সাধারণ ভোক্তাদের
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ জুন ২০২৬, ৯:১১:৪৩ অপরাহ্ন
গতকাল মিডিয়ায় ‘ক্ষমতা কমছে টাকার’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, টাকার ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। দেড় বছর আগে যে পণ্য আমদানি করতে ১০০ টাকা লাগতো, এখন তার জন্য ১২০ টাকা বা তারও বেশী গুণতে হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থবিভাগ সূত্রে প্রকাশ, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারসহ অন্যান্য প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার রেকর্ড পতন হয়েছে। এই মুদ্রার অবমূল্যায়ন দেশের অর্থনীতিকে এক জটিল ফাঁদে ফেলেছে, যার সরাসরি মাশুল দিচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা। ২০২৪ সালের এপ্রিলে প্রতি মার্কিন ডলারের আনুষ্ঠানিক মূল্য ছিলো ১১০ টাকা। ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রতি ডলারের বিনিময় হার বেড়ে হয় ১২২ টাকা। গত দেড় বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার ক্ষমতা বা মূল্য কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ। দেড় বছরে ইউরোপের একক মুদ্রা ইউরো ও ব্রিটিশ পাউন্ডের বিপরীতে টাকার মান প্রায় ১৮ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। আর চীনা মুদ্রা ইউয়ানের বিপরীতে টাকার মান কমেছে রেকর্ড পরিমাণ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, টাকার দাম কমায় সাময়িকভাবে রপ্তানিকারকেরা সুবিধা পেলেও দেশের অভ্যন্তরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় সেই সুবিধা কোন কাজে আসছে না। টাকার এই অবমূল্যায়নের ফলে দেশের প্রধান ৫টি খাত এখন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। উৎপাদন ও শিল্প খাত বিশেষভাবে তৈরী পোশাক ও ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পে কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানির খরচ ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। ফলে কারখানার উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। জ¦ালানী তেল, ভোজ্য তেল, গম ও ডালের মতো আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম বাড়ায় দেশে ‘আমদানীকৃত মূল্যস্ফীতি’ তৈরী হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। এছাড়া ডলারের দাম বাড়ায় বহুগুণ বেড়ে গেছে বিদেশী ঋণ ও সুদের কিস্তির পরিমাণ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২০২৬ সালের জানুয়ারী মাসে মূল্যস্ফীতি দাঁড়ায় ৮.৫৮ শতাংশে, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ৮.৪৯ শতাংশ থেকে কিছু বেশী। ২০২৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.৪২ শতাংশে। এ সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯.০৬ শতাংশ ও খাদ্য বহির্ভুত মূল্যস্ফীতি দাঁড়ায় ৯.৭১ শতাংশে। দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশী মূল্যস্ফীতি বিদ্যমান। সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির দিক দিয়ে ২০২৫ সালে বাংলাদেশ শীর্ষে ছিলো। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, ২০২৬ সালেও বাংলাদেশে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি থাকবে। গত দু-তিন বছর ধরে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। এনবিআরও তেল, আলু, পেঁয়াজ, ডিমসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যে শুল্ক-কর কমিয়ে দেয়। বাজারে নিত্যপণ্যের আমদানিপ্রবাহ ঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়। তবে গত দুই মাস ধরে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের বেশী থাকলেও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশের নীচে আছে।
এদিক দিয়ে কষ্টে আছে বাংলাদেশের সাধারণ ভোক্তারা। দিন দিন তাদের কষ্ট শুধুই বাড়তে দেখা যাচ্ছে। টাকার ক্রয় ক্ষমতা কমলেও তাদের আয় বাড়ছে না। আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশী হওয়ায় অপুষ্টি বাড়ছে, কমছে জীবন যাত্রার মান। আর মূল্যস্ফীতি হ্রাস তথা ভোক্তার ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধিই হচ্ছে নতুন সরকারের সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ।




