পণ্যমূল্যে অস্বস্থি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ অক্টোবর ২০২৪, ১২:৩৫:২৭ অপরাহ্ন

রাষ্ট্রের প্রায় বিধ্বস্ত বিপর্যস্ত বিভিন্ন খাত সংস্কারে আন্তরিকভাবে কাজ করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বিশেষ করে ব্যাংক খাত ও শেয়ারবাজারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান দুর্নীতি ও অনিয়ম দূর করার চেষ্টা করছেন অর্থ উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণরের নেতৃত্বে অন্যান্য কর্মকর্তা ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ। এর সুফল ও পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু খেলাফী ঋণ আদায় করা সম্ভব হয়েছে। চেষ্টা চলছে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার। এসব ইতিবাচক দিক ও অগ্রগতি সত্বেও একটি বিষয় জনমনে বেশ অসন্তোষ ও পীড়ার কারণ হয়ে আছে সেটা হচ্ছে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য। চাল থেকে মসলা ও শাকসবজি পর্যন্ত প্রতিটি পণ্যের দাম এখনো চড়া। কোনো কোনো পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও কিছু পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বেশির ভাগের দাম আন্দোলন পূর্ববর্তী সময়ের মতোই রয়ে গেছে।
অনেকের প্রশ্ন, এখন তো আগের মতো বেপরোয়া চাঁদাবাজি নেই, তাহলে পণ্যের দাম কমছে না কোনো? এ বিষয়ে নতুন সরকারের বিশেষ দৃষ্টি দেয়া দরকার বলে মনে করেন সচেতন মহল। গতকাল দৈনিক জালালাবাদের ‘শীতের সবজিতে ভরপুর বাজার, দাম আকাশছোঁয়া’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়েছে, শীত এখনো আসেনি তবে বাজারে চলে এসেছে প্রায় সব ধরণের শীতের সবজি। নতুন সবজির প্রতি ক্রেতাদের বাড়তি আকর্ষণ থাকলেও আকাশছোঁয়া দামের কারণে ধারে কাছেও যেতে পারছেন না সাধারণ সীমিত আয়ের ক্রেতারা। সবজি বিক্রেতাদের থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ সবজির দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। আবার শিমের দাম অনেক বেশি। শিম প্রকারভেদে ২শ’ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে সবজির বাজারে। অনেকের মতে, সাম্প্রতিক বন্যা ও বৃষ্টিতে সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়েছে একথা ঠিক। তা সত্বেও সবজির দাম এতো বেশি হওয়ার কথা নয়। সবজি বাজারে সিন্ডিকেটিং করে দাম বাড়ানো হচ্ছে। বিপ্লবের আগে যেমন সিন্ডিকেটিং ছিলো, এখনো তা অব্যাহত আছে। সবজি বাজারে সরকারের কোনো মনিটরিং নেই বললেই চলে।
এছাড়া চালের বাজার এখনো চড়া। আন্দোলনের আগের চালের যে দাম ছিলো, তা এখনো রয়ে গেছে। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে আগের চেয়ে বেড়েছে। অনেকের মতে, দেশের বেশ কয়েকটি জেলা বন্যায় হয়েছে। কিছু কিছু জেলায় এখনো বন্যা চলমান। বন্যা পরবর্তী খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে উৎপাদন, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে চালের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই মাসের ব্যবধানে সবধরণের চালের দর গড়ে ৮ শতাংশ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চাল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শুল্ক কমানো হচ্ছে আমদানির ক্ষেত্রে। এসব উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। দেশের দরিদ্র ও সীমিত আয়ের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে প্রধান খাদ্যপণ্য চালের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষক পর্যায়ে চালের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, উপযুক্ত মূল্যে চাল সংগ্রহ এবং ন্যায্যমূল্যে ও এমএস পদ্ধতিতে চাল বিক্রির উদ্যোগ দেশের চালের বাজারকে সহনীয় করতে পারে। এ বিষয়ে সম্ভব সব ধরণের পদক্ষেপ নিতে হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে। অন্যথায় বিপ্লবের সুফল পৌঁছাবে না দেশের সিংহভাগ মানুষের কাছে। চাল নিয়ে এতো সিন্ডিকেটিং বা কারসাজি গুঁড়িয়ে দিতে হবে যে কোনো মূল্যে।
যেহেতু দেশের ভেঙ্গে পড়া ও বিপর্যস্ত বিভিন্ন খাত সংস্কারের কাজ চলছে, তাই রাতারাতি দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদল সম্ভব নয়। কিন্তু দেশে দ্রব্যমূল্য বিশেষভাবে খাদ্যসহ নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষে নতুন সরকারকে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চালাতে হবে। এ জন্য বাজার কারসাজি, দুর্নীতি ও খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। জনগণের প্রত্যাশা, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অচিরেই এদিকে দৃষ্টি ও মনোযোগ দেবে।




