পাঠ্যবই মুদ্রণ নিয়ে কেলেংকারি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:৩৫:১০ অপরাহ্ন

গতকাল দৈনিক জালালাবাদসহ অন্যান্য মিডিয়ায় ‘পাঠ্যবই ছাপতে ৬ বছরে লুটপাট দেড় হাজার কোটি টাকা! শ্বেতপত্রে নেই এর ছিঁটেফোটাও’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের শেষ ৬ বছরে বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপাতে দেড় হাজার কোটি টাকা লুটপাট হলেও শ্বেতপত্রে আসেনি এর ছিঁটেফোটাও। লুটপাটের কারণে শিক্ষার্থীদের মানহীন বই পড়তে হয় বলে অভিযোগ করেছেন খোদ পাঠ্যপুস্তক মুদ্রক ও বিপণন সমিতি। সচেতন মহলের অভিযোগ, দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিরা শ্বেতপত্র রচনার দায়িত্বে থাকায় ওঠে আসেনি প্রকৃত চিত্র। এছাড়া শ্বেতপত্র কমিটির নেতৃত্বে থাকা জনৈক ব্যক্তি প্রতিবেশী দেশের প্রতি দুর্বল থাকায় ভারতে মুদ্রিত পাঠ্যবইয়ের দুর্নীতির বিষয়টি যথাযথভাবে করা হয়নি। অনেকের অভিযোগ তিনি বিষয়টি ভালোভাবে মনিটরিং করেননি। এই ব্যক্তি সম্পর্কে জনপ্রিয় ইউটিউবার পিনাকী ভট্টাচার্য আগেই সতর্ক করেন, তার ভারতপ্রীতির বিষয়ে ইঙ্গিত প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, ২০১০ সাল থেকে প্রাথমিকের পাশাপাশি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও বিনামূল্যে বই পাচ্ছে। তবে এনসিটিবি’র বেঁধে দেয়া মানের তোয়াক্কা না করেই নিম্নমানের কাগজে ছাপানো হয় সব বই। এভাবে সিন্ডিকেট লুটে নেয় কোটি কোটি টাকা। খোদ হাসিনার আমলে ২০২৩ সালেই বই ছাপানোর কাজে ২৬৭ কোটি টাকার অনিয়ম পায় মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের অধীন শিক্ষা অডিট অধিদপ্তর। ২০১৮ থেকে ৬ বছরে লুটপাট হয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকারও বেশী। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী শাসনামলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) যেসব কর্মকর্তা নিম্নমানের পাঠ্যপুস্তক ছাপার কাজে সহায়তা করেছেন, তাদের নিয়েই গঠন করা হয়েছে দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি।
বাংলাদেশ পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও বিপনন সমিতির সভাপতি তোফায়েল খান বলেন, পাঠ্যবই মুদ্রন কাজে প্রতি বছর ৩শ’ থেকে ৪শ’ কোটি টাকা লুটপাট হতো, একথা নির্ধ্বিধায় বলা যায়। গত ৬/৭ বছরে বাধাহীন এ কাজ হয়েছে। নিম্নমানের নিউজপ্রিন্টে ছাপা হয়েছে পাঠ্যবই। জিএসএম, ব্রাইটনেস কিছুই ঠিক রাখা হয়নি। এমন একটা পরিস্থিতি তৈরী করা হতো, যে মানেরই বই হোক, বই দিয়েছে এটাই বড়ো কথা। আর এই সুযোগে একটি সিন্ডিকেট বিপুল অর্থ লোপাট করেছে।
২০২২ সালের ৪ ডিসেম্বর চাঁদপুরে এক অনুষ্ঠানে বইয়ের মান নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি বলেন, আমাদের ছাপানো বইয়ের কাগজের মান খারাপ নয়, রং কিছুটা ভিন্ন হলেও তা নিউজপ্রিন্ট নয়। ছাপানো কাগজ অনেক বেশী সাদা হলে তা চোখের জন্য ততো ভালো নয়। অদ্ভূত যুক্তি। অর্থ লোপাটের চাতুর্যপূর্ণ কৌশল। দেশের গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের শেষ প্রান্তে নিয়ে যাবার দায়িত্বে থাকা এই শিক্ষামন্ত্রী এখন জেলে। ইতোমধ্যে জেলে নেয়ার পথে তিনি ক্ষুব্ধ জনগণের কিল ঘুষি ও ডিম নিক্ষেপের শিকার হয়েছেন। ২০১৬ সালের ২৭ জুলাই ইনকিলাবে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে মানসম্মত কাগজ উৎপাদন হচ্ছে। এ কাগজ বহু দেশে রপ্তানিও হচ্ছে। দেশের মুদ্রণ শিল্পও এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। তারপরও পাঠ্যবই ছাপার ক্ষেত্রে কেনো ভারতীয়দের প্রতি আনুকূল্য দেখানো হচ্ছে তা একটি রহস্যপূর্ণ বিষয়। এক্ষেত্রে রহস্য কী তা একটু সচেতন মানুষের পক্ষে বুঝা সম্ভব। এর পেছনে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে ভারত তোষণ, দেশকে ভারতনির্ভর করা এবং স্বার্থ ভাগাভাগি করে শত শত কোটি লোপাটের বিষয়টি স্পষ্ট। ভারতের তাঁবেদার হাসিনার নেতৃত্বে তার মন্ত্রীরা এসব কাজই করেছে গত দেড় দশক। এর একটি অংশ হচ্ছে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রন নিয়ে কেলেংকারি ও ছলচাতুরী। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এ নিয়ে লুকোচুরি কিংবা ধামাচাপার বিষয়টি অগ্রহণযোগ্য। এটা স্পষ্ট হওয়া দরকার, এমন অভিমত সংশ্লিষ্ট সকলের।




