৫ কোম্পানির হাতে জিম্মি এলপিজি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৫৫:৫৪ অপরাহ্ন
জালালাবাদ রিপোর্ট: দেশের শীর্ষ পাঁচটি এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সরবরাহকারী কোম্পানি আমদানিকৃত গ্যাস মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট ˆতরি করছে বলে সরকারকে সতর্ক করেছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)|
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি আইগ্যাজ, ওমেরা, পেট্রোম্যাক্স, বিএম এনার্জি এবং যমুনা এই পাঁচটি বড় কোম্পানির নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেছে যে, গত ২২ সেপ্টে¤^র থেকে এরা এলপিজির বেশ কিছু চালান বাজারে না ছেড়ে আটকে রেখেছে| জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সরকার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে|
দেশে এলপিজির পর্যাপ্ত আমদানি থাকলেও বাজারে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব নেই| সরকারি ও এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) তথ্যমতে, সেপ্টে¤^রে দেশে প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে, যা দেশের ¯^াভাবিক চাহিদা পূরণের জন্য পুরোপুরি যথেষ্ট|
অথচ বাজারে কৃত্রিম সংকটের কারণে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত ১ হাজার ৫৮৫ টাকার ১২ কেজির সিলিন্ডার বর্তমানে অনেক এলাকায় দুই হাজার টাকারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে|
এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবর মাস থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন এলপিজির দাম প্রায় ৬৪ ডলার বেড়েছে| এই বাড়তি দাম ও মুনাফার সুবিধা নিতেই আমদানিকারকরা ইচ্ছাকৃতভাবে সেপ্টে¤^রের শেষ দিক থেকে চালান আটকে রেখেছে কি না, তা দ্রুত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন|
বাজার পরিস্থিতি ¯^াভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এলপিজির ˆদনিক আমদানি, মজুত ও সরবরাহের ওপর কঠোর নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশ করেছে গোয়েন্দা সংস্থাটি| একইসঙ্গে ২২ সেপ্টে¤^র থেকে বড় আমদানিকারকদের প্রতিটি চালানের আগমন, খালাস, মজুত ও বাজারে ছাড়ার তারিখের জরুরি হিসাব তলব করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে|
এলপিজির বাজারে অস্থিতিশীলতা ঠেকাতে সরকার ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) বাজার পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে| পাশাপাশি এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) তাদের সদস্য কোম্পানি, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কড়া ভাষায় সতর্ক করে জানিয়েছে, দেশে এলপিজির কোনো ঘাটতি নেই; তাই বিইআরসি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি বা অবৈধ মজুত করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে|
এদিকে এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে নাম থাকা কোম্পানিগুলো এসব অভিযোগ অ¯^ীকার করেছে| কোম্পানিগুলো দবি করছে তারা সবসময় সরবরাহ নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেন এবং এই নীতি থেকে তারা সরে আসেননি| অভিযুক্ত অন্য একটি কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও দাবি করেছেন, তাদের প্রতিটি চালানের গতিবিধি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত থাকে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র দিয়ে তারা অভিযোগের জবাব দিতে প্রস্তুত|





